প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে সারা দেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ন্যায় বন্ধ আছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । সব শ্রেণি লোকজনের মাঝে বিরাজ করছে এক প্রকার আতঙ্ক । করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। এর পর থেকে শুরু হয়েছে শিশু কিশোসহ শিক্ষাথীদের ঘর বন্দি জীবন। নেই কোন স্কুল কলেজের চিন্তা সেই সাথে নেই কোন তাদের পড়া লেখার বাড়তি চাপও। এক কথায় বাসা বাড়িতে বসে অবসরেই পার হচ্ছে তাদের দিন।
বর্তমান এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে ফেসবুক আর ইন্টারনেট ব্যবহারে খেলাধুলা, নাটক, গল্প, খবর,খাবার রেসিপি, কার্টুন, পাঠ গ্রহন, ধর্মীয় আলোচনাসহ বিভিন্ন দিকে মেতে রয়েছে তারা। ফেসবুক আর ইন্টারনেট ব্যবহারে সব বয়সের শিক্ষার্থীরা রয়েছে। বিদ্যুৎ ও নেট সুবিধা ভাল থাকায় আর করোনা প্রাদুর্ভাবের সুযোগে শিক্ষার্থীরা এখন ফেসবুক আর ইন্টারনেট ঝুঁকছেন বেশী। এক কথায় তারা এখন বেশীভাগ সময় পার করছেন মুঠোফোনের মাধ্যমে। শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ে ও এর ব্যবহার কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদেরকে এই দুর্যোগের সময়ে ঘরে রাখতে পেরে অনেকটাই স্বস্তি বোধ করছেন।
শিক্ষার্থী কাজী জান্নাতুল মাওয়া, কাজী আমরিন হাসান বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে অনেকদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। লেখাপড়ার চাপ নেই বলে চলে। কোথাও যেতে ও ভয় করে । তাই মোবাইল ফোনে খেলাধুলা, কার্টুন,নাটক, পাঠদান দেখে সময় পার করেছি। ঘরে বন্দি থাকলে ও এইসব কিছু দেখে কিছুটা ভালো লাগছে।
কাজী সাইফ, মো. মোমিন বলেন আগে স্কুলে যাওয়া, প্রাইভেট, খাওয়া দাওয়া, পড়ালেখা ঘুম সব কিছু একটা নিয়মের মধ্যে ছিল। মোবাইল ফোনে খেলাধুলা, কার্টুনসহ অন্যান্য কিছু দেখার সময় খুবই কম । কিন্তু করোনার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এক প্রকার অবসর সময় পার করছি। তাই মোবাইল ফোনে খেলাধুলা, কার্টুনসহ শিক্ষানীয় কিছু দেখে সময় পার করছি।
অভিভাবক মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, একদিকে করোনার প্রার্দুভাব অন্য দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ তাই ছেলে মেয়ে নিয়ে খুবই আতঙ্কে আছি। পড়াশুনার চাপ না এখন ফেসবুক আর ইন্টারনেট ব্যবহার করে খেলাধুলা, নাটক, গল্প, খবর, কার্টুন, পাঠ গ্রহনে তারা মেতে আছে। এই দুর্যোগের সময়ে সন্তানদেরকে ঘরে রাখতে পেরে অনেকটাই স্বস্তি বোধ করছেন। তবে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার যাতে না করতে পারে সেজন্য খুবই তৎপর রয়েছে বলে জানায়।
শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার প্রতি খেয়াল রাখা উচিত। এই দুর্যোগে ফেসবুক আর ইন্টারনেট ব্যবহারে তাদেরকে সময় বেশী দিলে পরবর্তীতে সেখান থেকে আনা কঠিন হবে। তাই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের পড়াশুনার প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া উচিত।





