যশোরের শার্শা উপজেলার শার্শা কামারবাড়ি মোড় হতে কাশিপুর আঞ্চলিক সড়কে দীর্ঘদিন ধরে সকল ধরনের যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে শত শত যাত্রীবাহী ছোট ছোট পরিবহণ ও মালবাহী পরিবহণে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদামাটিসহ ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। ওই সব গর্তের উপর দিয়ে অটোরিকশা, ইজিবাইক, মালবাহী গাড়ি, কিংবা যাত্রীবাহী ছোট ছোট যানবাহন উল্টে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার মতো ঘটনাও ঘটছে।
সরেজমিন শাড়াতলা, পাকশিয়া, সরূপদহ পরিদর্শনে দেখা গেছে, শার্শা কামারবাড়ি মোড় হতে কাশিপুর বাজার পর্যন্তক এ আঞ্চলিক সড়কের ১৭ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৮-৯ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ আর গর্তে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বেহাল রাস্তাটির সংস্কারের জন্য পিচের রাস্তায় ইটের সলিং দিয়ে চলার উপযোগী করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সড়কে চলাচলের অযোগ্য বলে ১০ টাকার ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২০-৩০ টাকা। এতে ক্ষোপ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও।
ইজিবাইক চালকরা দাবি করেন, গোড়পাড়া থেকে শাড়াতলা এলাকায় গর্ত ভরাট করতে ইটের সলিং করা হয়েছে। যা কংক্রিটের স্তরের চেয়ে অনেক উঁচু। এতে ইজিবাইক চলার সময় একদিকে কাত হয়ে পড়ে। যার ফলে যাত্রী নিয়ে ইজিবাইক প্রায়দিনই উল্টে পড়ার ঘটনা ঘটছে।
ট্রাক চালক আমিনুর রহমান বলেন, রাস্তা এতটাই খারাপ, স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। ট্রাকের যন্ত্রাংশ প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। আর সংস্কারের জন্য পিচের উপর সলিং করা হয়েছে যা অনেক উঁচু করে বিট আকারে তৈরি করেছেন।
কলেজ ছাত্র রাব্বি বলেন, সড়কটির বেহাল দশা জানিয়ে গাড়ি চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। এতে দূর্ভোগে পড়ছে শতশত পথচারী৷
কয়েকজন পথচারী জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন নির্মাণ না হওয়ায় বর্তমান চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে । বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে যানবাহনে যাওয়া তো দূরের কথা, হেঁটে যাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সব ধরনের শ্রেণি-পেশার মানুষকে। পিচের বদলে নিম্ন মানের ইট দিয়ে সলিং দেওয়া হচ্ছে। এ সড়কটির দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন মনে করে তারা।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী এম, এম , মামুন হাসান জানান, রাস্তাটি দীর্ঘদিন নির্মাণ না হওয়ার কারণে বর্তমান চলাচল অনুপযোগী। চলতি বছরে রাস্তাটির নির্মাণের কাজ শুরু করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা আটকে আছে। তবে, রাস্তাটি দিয়ে চলাচলের উপযোগী করতে এলজিইডি দপ্তর থেকে সলিং করে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হবে।





