সরকারি সহযোগীতা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শের অভাবসহ নানামুখী সমস্যায় পড়ে লোকসানের মুখে ফুল চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন লালমনিরহাটের ফুলচাষীরা। সোমবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার তেলীপাড়া এলাকায় তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে হরেক রকমের ফুলের চাষ করছেন আব্দুর রশিদ (৩৮)। বাগানে হরেক রকমের ফুলের গাছ থাকলেও দেখা মেলেনি ফুলের। গোলাপ আর গাঁধা ফুলের গাছ ছাড়া আর কোন গাছেই তেমন ফুল আসেনি।
জানা গেছে, উদ্যোক্তা আব্দুর রশিদ এক যুগের বেশি সময় ধরে লালমনিরহাট শহরে রুপন ফুল বিতান নামের একটি দোকান দিয়ে ফুলের ব্যাবসা করে আসছেন। তার দোকান থেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফুল ক্রয় করেন ক্রেতারা। অন্য জেলা থেকে ফুল ক্রয় করে আনলে ফুলের মূল্য ক্রেতাদের কাছে বেশি নিতে হয় বলে তিনি নিজেই ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে পড়েন। তিনি বিগত পাঁচ বছর যাবৎ ফুলের চাষ করে আসছেন। তার বাগানে গোলাপ,গাঁধা, চন্দ্রমল্লিকা ও জার্ভেরাসহ বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ রয়েছে। তার বাগানে ৫ জন মালী ও দোকানে ৫ জন বেকার যুবক কাজ করছেন। শুরুর দিকে ফুল চাষে লাভের মুখ দেখলেও গত কয়েক বছর থেকে লোকসানে পড়েছেন তিনি। এজন্য তিনি দায়ি করেছেন কৃষি বিভাগের লোকজনকে। সঠিক পরামর্শ ও সহযোগীতার অভাবে তিনি ফুলচাষে লোকসান করছেন বলে অভিযোগ করেন।
ফুল চাষী আব্দুর রশিদ রুপন বলেন, লালমনিরহাট জেলায় আমি একমাত্র বানিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ করছি। কৃষি অফিসের সহযোগীতা ও পরামর্শের অভাবে আমার বাগানে ফুলের ফলন কমে গেছে। তিন বিঘা জমিতে যা বিনিয়োগ করেছি তাতে আমি বর্তমানে লোকসানের মধ্যে রয়েছি। আমি কৃষি অফিসের পরামর্শ চাই। আমি আশাবাদী কৃষি অফিসের পরামর্শ পেলে সফলতার মুখ দেখবো। এ অবস্থায় আমি ফুল চাষ বাদ দিলে অনেকে বেকার হয়ে পড়বে। তাই তিনি কৃষি অফিসের পরামর্শের পাশাপাশি সরকারীভাবে সহযোগীতার দাবী জানান।
ওই তেলীপাড়া এলাকার ইমাম উদ্দিন (৫৫) বলেন, আমি কয়েক বিঘা জমির উপর ধান,পাঠ,সবজিসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করে থাকি। আমার পাশের জমিতে ফুলের চাষ করা হয়ে থাকে। এই বাগানে ফুলের গাছ অনেক থাকলেও ফুল তেমন দেখা যায় না। আমরা কৃষি অফিস থেকে যে পরিমানে পরামর্শ ও সহযোগীতা এবং সরকারী প্রণোদনা পাই সেরকম ফুল চাষীরা সহযোগীতা পায় না। যার কারনে তিনি লোকসানের মধ্যে আছে। তবে কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সরকারী সহযোগীতা পেলে তিনি ফুল চাষে লাভবান হবেন বলে তিনি দাবী করেন।
ওই বাগানের মালী রবিউল ইসলাম (৩৫) বলেন, আমরা এই বাগানে কয়েকজন কাজ করি। নিয়মিত হাজিরার বিনিময়ে কাজ করে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোই আছি। বাগানের মালিক ফুল চাষ বন্ধ করে দিলে আমরা বেকার হয়ে পড়বো।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মারুফা ইফতেকার সিদ্দিকা বলেন, ফুলচাষীদের জন্য আমাদের সরকারী কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। তবে আমরা ফুল চাষীদের কারিগরি পরামর্শ দিতে পারি। ফুলচাষী আব্দুর রশিদ রুপন আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা তাকে কারিগরি সহযোগিতা করবো।





