লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে ব্যংক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ওই ব্যাংক কর্মকর্তাসহ একই পরিবারে তিনজন আহত হয়েছে। আহতরা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে ইমরান হোসেন তারেক কেরানীগঞ্জ শাখা প্রিমিয়ার ব্যাংকের কর্মকর্তা। অপর দুইজন তাহার পিতা ও বোন হয়। আহতরা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দি পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডে এলাহীবক্স ভূঁইয়া বাড়ীতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, জায়গা জমিন নিয়ে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত আনোয়ার উল্যা ভূঁইয়া রবিবার ১ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে জি.আর মামলা দায়ের করেন।
মামলা আসামীরা হলেন, লাহারকান্দি পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডে এলাহীবক্স ভূঁইয়া বাড়ীর মৃত অজি উল্যা ভূঁইয়ার ছেলে মহিউদ্দীন বাবলু (৫৮), তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার নিসা (৫২), ছেলে ইমতিয়াজ আহম্মেদ অনিক (৩২) ও কন্যা আলবিনা আহম্মেদ জুঁই (২২)।
বাদী আনোয়ার উল্যা ভূঁইয়া জানান, প্রায় ৪০বছরের তাদের দখলীয় জমিতে আসামীরা খড়েরপাটা দিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেছে। এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা মোকদ্দমা চলমান আছে। ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে আমার ভাই সামছুল ইসলামের সাথে ওই জমি নিয়ে কথাবার্তা বলার সময় পূর্বশক্রতার জেরে পিছন থেকে আসামীরা এসে আমাকে আক্রমন করলে আমার ছেলে ১নং সাক্ষী ইমতিয়াজ আহম্মেদ এমরান ও কন্যা ফারজানা আক্তার ঘটনাস্থল এসে আমাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে এ সময় আসামীরা দা, লোহার রড ও চোরা হাতে নিয়ে আমাকে সহ ১ ও ২নং সাক্ষীকে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্নিস্থানে মারাত্মক জখম করে। শোরচিৎকারে অন্যান্য লোকজন এসে আমাদেরকে আসামীদের কবল হইতে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর থানায় হামলাকারী ৪জনের বিরুদ্ধে জি. আর মামলা দায়ের করি।
ইমরান হোসেন তারেক জানান, আমি ছুটিতে বাড়ি আসি। মহিউদ্দীন বাবলু সহ তার স্ত্রী, ছেলে ও কন্যারা আমার বাবাকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আঘাত করতে গেলে আমি ও আমার বোন দেখে দৌড়ে গিয়ে আসামীদের বাধা দিলে তারা আমাদের সবাইকে অস্ত্রদ্বারা আঘাত করে। গুরুত্বর জখম নিয়ে আমরা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিই। জমির বিরোধ নিয়ে এর আগে তারা আমাদেরকে একাধিকবার হামলা করে। এছাড়া আসামী মহিউদ্দীন বাবলু বিভিন্ন সময় ছুরি হাতে নিয়ে আমাদেরকে পুনরায় আক্রমন করতে ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়।
ঘটনার বিষয়ে মহিউদ্দীন বাবলুর ছেলে ইমতিয়াজ আহম্মেদ অনিক মুঠোফোনে জানান, জমি বিরোধ নিয়ে ইমতিয়াজ আহম্মেদ এমরানগংদের সাথে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মুসলেহ উদ্দীন জানান, মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনামলে আনা হবে।





