ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সর্বত্র হাটবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। আগামী সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য ‘লকডাউন’ শুরু হবে এমন খবরে বাজারগুলোতে এ অবস্থা তৈরি হয়। বিশেষ করে মাছ ও সবজি বাজারে এ ভিড় দেখা যায়। তবে কেউ কেউ একসঙ্গে বাড়তি পরিমাণ পণ্য কিনছেন।
শনিবার পৌর শহরের সড়ক বাজার, বড়বাজার ও মোগড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাছ ও সবজি বাজারে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড়। তবে বাজারে শারীরিক নিরাপদ দূরত্ব মানার যেন কোনো বালাই নেই। বেশিরভাগ মানুষ সংসারের প্রয়োজনীয় পণ্য চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ ,আলু, বেগুন, টমেটো, মুখি, কাঁচা মরিচ,কাকরোলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য কিনছেন।
ক্রয় করতে আসা বেশীভাগ লোকজনই অতিরিক্ত পরিমাণ নিত্যপণ্য জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে হঠাৎ বাজারে ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়াতে বিভিন্ন ধরনের নিত্য পণ্যে কেজি প্রতি ২-৫ টাকা বেড়ে গেছে বলে বাজার করতে আসা লোকজন অভিযোগ করেন। অবশ্য স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, লকডাউনকে কেন্দ্র করে কোন প্রকারের পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাইনি।
পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকার মো. আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, করোনা পরিস্থিতি ফের দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার থেকে আসছে আবারও লকডাউন। সামনের পরিস্থিতি মনে হচ্ছে আরও খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কিনে রাখছি যাতে লকডাউনের মধ্যে আর বের হতে না হয়।
হীরাপুর এলাকার মো. সবুজ মিয়া বলেন লকডাউনের খবরশুনে তিনি সবজি, মাছ, মসলাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রকারের জিনিস ক্রয় করেছেন। কারণ লকডাউনের সময় বাজারে আসতে খুবই কষ্ট হয়ে পড়বে তাই ক্রয় করা হয়। তবে গতকালের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা বেশী বলে জানায়।
গৃহিণী আলেয়া বেগম বলেন, তার দুই ছেলে প্রবাসে আছেন। বাজার করারমতো তেমন লোকজন নেই। লকডাউনের কথা শুনে সকালেই তিনি বাজারে এসে ১০ কেজি আলু, ৩ কেজি ডাল, শুকনো মরিচ, হলুদ, পেয়াঁজসহ বেশ কিছু নিত্য পণ্য ক্রয় করেছেন।
মো. এমরান হোসেন বেেলন, এক সাপ্তাহ কঠোর লকডাউনের কথা শুনে ১৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি ডাল, ৪ হালি ডিম,২ কেজি চিনিসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কেনা হয়। তবে লকডাউনের খবরে আগের চাইতে তুলনামূলক অনেক পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানায়। এদিকে ওষধ দোকানগুলোতেও ভিড় দেখা যায়।
পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় পণ্যবিক্রেতা ব্যবসায়ী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আগামী সোমবার থেকে লকডাউনের ঘোষণা খবরে সকাল থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে লোকজনের ভিড় বাড়ছে। যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ক্রেতারা ভাবছেন লকডাইনের সময় বাজারে আসা যাবে না তাই সাধ্যনুযায়ী নিত্যপণ্য ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাইনি বলে জানায়।





