রূপগঞ্জে পানিবন্দি ৩০ গ্রামের মানুষ

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

রূপগঞ্জে পানিবন্দি ৩০ গ্রামের মানুষ

  • ইমদাদুল হক দুলাল, রূপগঞ্জ
  • প্রকাশিত ৫ জুলাই, ২০২১

উপজেলার ৩০ গ্রামের প্রায় ১৫/২০ হাজার পরিবারের মানুষ এখন পানিবন্দি। গত কয়েক দিনের অতিবৃষ্টির পানিতে ও অপরিকল্পিতভাবে সেচ প্রকল্প নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার তারাবো, বরপা, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল, মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, বাকমোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয়নগর, মদিনানগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, শান্তিনগর, বাগানবাড়ি, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, যাত্রামুড়া, রূপসী ও ভুলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনাব, পাচাইখা ও ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকা এখন জলাবদ্ধ। তাতে ১৫/২০ হাজার পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

অতিবৃষ্টিতে অনেকের বসত ঘরে ৩/৪ ফুট পানি। কারো কারো বসত ঘরে হাঁটু সমান, আবার কারো বসতঘরে কোমর সমান পানি। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। জমির ফসল হলদে হয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গবাদি পশু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কয়েকটি শিল্পকারখানায়ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া শিল্পকারখানার নির্গত কেমিক্যাল ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে রোগাক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

নাগেরবাগ গ্রামের শামীম মিয়া বলেন, জলাবদ্ধতায় অতি কষ্টে চলছে নিম্ন আয়ের মানুষের। এ পানিতে মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ১০/১২ বছর ধরে সামান্য বৃষ্টি হলেই এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের বাঁচতে হচ্ছে। বরপা গ্রামের গৃহিণী রোকসানা আক্তার বলেন, আমার ঘরে হাঁটু সমান পানি। চুলায় আগুন জ্বালাতে পারি না।

তারাবো পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাহাবুবুর রহমান জাকারিয়া বলেন, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার সমাধান করা হবে।

গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন ভুঁইয়া বলেন, একটি ড্রেজার, কয়েকটি সেচ পাম্প ও বেড়িবাঁধের বটতলার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি, জলাবদ্ধতার সমাধান হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান বলেন, রূপগঞ্জের বিভিন্ন জায়গার সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনের কাজ চলছে। তা আগামী ২/৩ দিনের মধ্যেই সমাধান হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads