সারা দেশ

রুপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: ভোলার ৭ শ্রমিক নিখোঁজ

  • অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা
  • প্রকাশিত ১১ জুলাই, ২০২১

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ ভোলার ৭ শ্রমিক পরিবারে চলছে শোকের মাতম। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৮ জন শ্রমিক কারখানার চারতলায় কাজ করছিলেন। এসময় কারখানার ছাদে উঠে ১১ জন প্রাণ বাঁচাতে পারলেও সাত জনের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা কেউ জানে না। নিখোঁজ এসব শ্রমিকের বাড়িতে চার দিন ধরেই চলছে মাতম। তাদের আর্তনাদ আর আহাজারিতে ভারি উপজেলার ৬টি গ্রাম। নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের লোকজন অন্তত তাদের প্রিয়জনের লাশ দাফনের সুযোগটুকু চাইছেন। এখন শুধু চোখের জলই তাদের একমাত্র সান্ত্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে রবিবার ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিখোঁজ শ্রমিকদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ করতে দেখা যায়। কোনো কথাই বলতে পারছেন তারা। 

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ষাটোর্ধ বৃদ্ধ আব্দুল মন্নান মাতাব্বর। এক মাত্র ছেলে নোমান (২২) চার বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় ১৩ হাজার টাকা বেতনে চাকুরী করতেন। ছেলের মাসে মাসে পাঠানো টাকায় তার ওষুধ ক্রয় ও সংসারের খরচ চলতো। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এখন কিছুই বলতে পারছেন না তিনি। কেউ গেলে শুধু তার দিকেই চেয়ে থাকেন। জীবিত না হলেও কমপক্ষে মৃত ছেলের মুখ দেখতে চান তিনি। 

একই অবস্থা নোমানের মা ফিরোজা বেগমের। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের দুই মেয়ে এক ছেলে। এর আগেও তিনটি ছেলে বড় হয়ে মারা যায়। সর্বশেষ এই একটি ছেলেকে অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন। আশা ছিলো শেষ বয়সে এই ছেলেই তাদের দেখভাল করবেন। কিন্তু তা হলো না তাদের কপালে। 

অগ্নিকাণ্ডে চরফ্যাশন উপজেলার আরো নিখোঁজ রয়েছে- আব্দুল্লাহপুর ৬নং ওয়ার্ডের আব্দুল কাদের মাঝি বাড়ির দিনমজুর ফজলুর রহমানের ছেলে মো. হাসনাইন (১১), একই বাড়ির রিকশাচালক মো. কবিরের ছেলে মো. রাকিব (২২), জিন্নাগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দাসকান্দি এলাকার আবু তাহেরের মেয়ের জামাই মো. শাকিল (২৩), চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের তাজউদ্দিনের ছেলে মো. রাকিব, দক্ষিণ আইচা চর মানিকা ইউনিয়নের মো. ফখরুল ইসলামের ছেলে শামিম, আছলামপুর ইউনিয়নের জনতা বাজার এলাকার মো. গোলাম আলীর ছেলে মো. মহিউদ্দিন। অগ্নিকাণ্ডে একই উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের কামাল রাঢ়ীর ছেলে মো. ফয়সাল (১৯), মো. রুহুল আমিন পাটওয়ারীর ছেলে মো. রাসেল (১৮), আব্দুল গনির ছেলে মো.ইউছুফ, মো. লিটনের ছেলে মো. আল আমিন, আবু জাহেরের ছেলে মো. মোতালেবসহ ৭ জন আহত হয়। 

এওয়াজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন বলেন, গত রোজার ঈদের ৮-১০ দিন পর স্থানীয় মোতালেব সরদার এওয়াজপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার ১৮ জন শ্রমিক নিয়ে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ কারখানায় সেমাই তৈরীর করতে যায়।

মোতালেবের নেতৃত্বেই এরা সেখানে কাজ করতো। অগ্নিকাণ্ডের দিন মোতালেব কারখানার বাহিরে চা খেতে গেলে কারখানার ভিতরে আগুন লাগে। এতে ১৮ জনের মধ্যে ১১ জনকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মাধ্যমে উদ্ধার করলেও বাকী সাত জনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধারনা করা হচ্ছে অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া ৫২টি পোড়া মরদেহের মধ্যে তাদের লাশ থাকতে পারে। 

এওয়াজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুব আলম খোকন বলেন, তার ইউনিয়নের একজন নিখোঁজ, ৭ জন আহত হয়েছে। এরা প্রত্যেকে অসহায়। তাদের সাহায্য করা দরকার। 

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো রুহুল আমিন বলেন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিখোঁজ, নিহতের পরিবার ও আহতদের পরিবারকে অর্থসহায়তা দেবে। চরফ্যাশন থেকে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে জিআর, বয়ষ্ক ভাতা দেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads