যৌতুকের জন্য মারের ভয়ে পাশের বাড়ি লুকিয়ে রক্ষা পায়নি হালিমা, ঘাতক স্বামী কারাগারে

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

যৌতুকের জন্য মারের ভয়ে পাশের বাড়ি লুকিয়ে রক্ষা পায়নি হালিমা, ঘাতক স্বামী কারাগারে

  • মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২ অগাস্ট, ২০২১

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে অমানবিক মারধরের ভিডিও ভাইরাল হওয়া ঘাতক স্বামী মুরাদ সেখকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। আজ সোমবার বিকেল ৩ টার দিকে ঘাতক স্বামী মুরাদকে আদালতে হাজির করা হলে মুন্সিগঞ্জ আমলী আদালত-২ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট শান্তুি চন্দ্র দেবনাথ তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান কোর্ট জিআরও জসিমউদদীন।

এর আগে আজ বেলা ১১ টার দিকে সিরাজদিখান থানা হতে মুন্সিগঞ্জ আদালতে ঘাতক স্বামী মুরাদকে প্রেরণ করে পুলিশ।

নির্যাতিতা স্ত্রী মোছা: হালিমা বেগম জানান, সিরাজদিখান উপজেলার কাজীরবাগ গ্রামের হেলাল শেখের ছেলে মো: মুরাদ শেখের সাথে আমার ১৩ বছর পুর্বে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। বিবাহের পর আমাদের সংসারে দুইটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। বিবাহ পর আমার বাপের বাড়ি হতে যৌতুকের ২ লক্ষ টাকা আনিয়া দিতে বলে। আমি যৌতুকের টাকা আনিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আমার স্বামী আমাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করতো। পরে আমি আমার সংসার ও মেয়েদের কথা চিন্তা করে কয়েক বছর আগে আমার স্বামীকে আমার বাবার নিকট হতে টাকা এনে দেই। গতকাল রোববার সকালে আরো ১ লাখ টাকা এনে দিতে বলে। আমি বলি এখন আমার বাবা নেই কোথা হতে আনবো। বললে আমার স্বামী আমাকে মারার জন্য আগাইয়া আসে। আমি ভয়ে আমাদের বাড়ির পাশের রতন কাজীর ঘরে আশ্রয় নিলে আমার স্বামী রতন কাজীর ঘর হতে টেনে বের করে রতন কাজীর ঘরের সামনে ফাঁকা জায়গায় চাপাতি দিয়া আমার মাথায় কোপ মারে। কোপ আমার কপালে লেগে কেটে যায়। আমি মাটিতে পরে গেলে আমাকে কিল ঘুসি লাথি মারে । পরে আশেপাশের লোক আগাইয়া আসিয়া স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, আসামীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।আসামীর বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় নারী- শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য রোববার ১ আগষ্ট সকাল ১০ টায় উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের কাজীরবাগ গ্রামের হেলাল শেখের ছেলে মো: মুরাদ শেখ (৪০) স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সর্ব মহলে নিন্দার ঝড় উঠে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads