শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা। ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রামমুখী নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী রেলস্টেশনে এসে থামে। ট্রেনের যাত্রী চট্টগ্রামের কুমিরা এলাকার তরকারি বিক্রেতা মোঃ মোস্তফা তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলের জন্য চিপস কিনতে নামেন। ট্রেন পুনরায় যাত্রা শুরু করলে মোস্তফা চিপস নিয়ে তড়িঘড়ি করে ট্রেনে উঠার সময় পা পিছলে পড়ে ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে দুই পা’র নিচের অংশ হারান। চট্টগ্রামের দিকে চলে যায় ট্রেন। মোস্তফার স্ত্রী ও সন্তান ট্রেনেই ছিলেন। এ সময় গুণবতী বাজারে থাকা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আলম সেলিম ‘কৌতুহল’ বশত ষ্টেশনে আহত ব্যক্তিকে দেখতে যান। আধা ঘন্টারও বেশি সময় হলেও কেউ আহত ব্যক্তিকে ধরছে না। চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা করছে না। মানবিক কারণে যুবদল নেতা সেলিম তাৎক্ষণিক কিছু টাকা সংগ্রহ করে আহত ব্যক্তিকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় তাকে সহযোগীতা করেন গুণবতী রেলষ্টেশনে থাকা দুই ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী। ওই হাসপাতাল থেকে আহত ব্যক্তির স্বজনদের পেতে ফেসবুক লাইভ করেন সেলিম। তাৎক্ষণিক লাইভটি ভাইরাল হলে যোগাযোগ করে ট্রেনে থাকা তাঁর স্ত্রী ছফুরা বেগম ও ছেলে আশরাফুল ইসলামের খোঁজ পাওয়া যায়। তাঁরা কুমিরা রেলষ্টেশনে নেমেছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতালের চিকিৎসকগণ আহত মোস্তফাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু গাড়ি ভাড়ার জন্য চট্টগ্রাম নেয়ার সাহস করছিলেন না সেলিম। তখন হাসপাতালে দায়িত্বরত এএসআই আরমানের উদ্যোগে কিছু টাকা ও গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। যুবদল নেতা সেলিম ও তাঁর সাথে থাকা দুই ব্যবসায়ী আহত মোস্তফাকে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। পথিমধ্যে কুমিরা রেলষ্টেশন থেকে মোস্তফার স্ত্রী ও সন্তানকে গাড়িতে উঠিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রোববার রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আহত মোস্তফাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফেসবুক লাইভে দেয়া নিজের বিকাশ নাম্বারে আসা মানুষের টাকা মোস্তফার স্ত্রীকে রোববার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে ফেরত দেন সেলিম।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত যুবদল নেতা সেলিমের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশসহ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহকারী সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। আহত মোস্তফা ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার ঝাটিয়া ইউনিয়নের গাগড়াপাড়া গ্রামের ওমেদ আলীর পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ চট্টগ্রামের কুমিরা এলাকায় সবজি বিক্রি করেন।
আহত মোস্তফার স্ত্রী ছফুরা বেগম রোববার দুপুরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘পৃথিবীতে এখনও ভালো মানুষ আছে, তার প্রমাণ পেয়েছি আমার স্বামী দুই পা হারানোর পর। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি-সেলিম ভাইসহ অন্যদের জন্য। আমার স্বামী সামান্য সবজি বিক্রেতা, স্বামীর চিকিৎসার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি’।
এদিকে যুবদল নেতা গুণবতী ইউনিয়নের খাটরা গ্রামের নুরুল আলম সেলিম বলেন, ‘চা পানের জন্য সন্ধ্যায় বাড়ির পার্শ্ববর্তী গুণবতী বাজারে গিয়েছি। খবর পেয়ে কৌতুহল বশত আহত সবজি বিক্রেতা মোস্তফাকে দেখতে রেলষ্টেশনে যাওয়ার পর দেখি করুন দৃশ্য। কেউ তার সেবায় এগিয়ে আসছে না। তাৎক্ষণিক নিজ চেষ্টায় কিছু টাকা সংগ্রহ করে আহত মোস্তফাকে প্রথমে ফেনী সদর হসপিটালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। আহত ব্যক্তির সেবায় এগিয়ে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি’।





