মৌলভীবাজারে জেলার রাজনগর উপজেলা হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আইসোলেশন সেন্টার তৈরির ঘোষণায় জনমনে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মাইকিং করে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। যে কোনো মূল্যে রাজনগর উপজেলা হাসপাতালে প্রস্তাবিত আইসোলেশন সেন্টার তৈরির প্রক্রিয়া ঠেকানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
আজ রোববারও হাসপাতালের সম্মুখে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় লোকজন।
মৌলভীবাজার জেলার কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রাজনগর উপজেলা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। শনিবার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ জন্য ৭ মার্চ থেকে রাজনগর হাসপাতালে সবধরণের রোগী ভর্তি বন্ধ করে দেয়া হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে জারি করা নোটিশ এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ৪ মার্চ ঢাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সভা হয়। সভায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ এবং প্রতিকারে করণীয় সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। ওই আলোচনার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলায় জেলায় হাসপাতালগুলোতে করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য আইসোলেশন সেন্টার তৈরির। তারই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজার জেলার সম্ভাব্য করোনা রোগীদের সেবায় রাজনগর উপজেলা হাসপাতালে নির্বাচন করা হয়।
ঢাকার সভার সিদ্ধান্তের আলোকে জেলার করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবায় রাজনগরের একমাত্র সরকারী হাসপাতালকে বাছাই করায় ৭ই মার্চ থেকে সাধারন রোগীদের রাজনগর উপজেলা হাসপাতালে রোগি ভর্তি বন্ধ করা হয়। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যে অন্যান্য প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয় বলে সরজমিনে চিত্র পাওয়া যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ দেবেশ পোদ্দার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত ওই নোটিশ হাসপাতালে টানানো হলে এবং বাস্তবে রোগী ভর্তি বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি জানাজানি হলে উপজেলা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়া লোকজন জানান, এমনিতেই চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে রাজনগর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা সরঞ্জাম ও জনবল সংকট রয়েছে। এরই মধ্যে করো না ভাইরাসের মতো সংক্রামক ব্যাধির চিকিৎসা রাজনগরে করা হলে উপজেলার মানুষ বাড়তি ঝুঁকিতে পড়বে। রাজনগর উপজেলার জরাজীর্ণ এই হাসপাতাল ছাড়া আর কোনো ক্লিনিকও নেই। তাই চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালই কয়েক লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা।
রাজনগর বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, যেখানে জনবসতি কম সেখানে করোনা রোগীদের রেখে চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করা উচিত। এই সিদ্ধান্ত রাজনগরবাসীর জন্য করোনা ভাইরাসের বড় হুমকি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দেবেশ পোদ্দার জানান, গত ৪ তারিখে মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে রাজনগর হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। সেই আলোকে নতুন রোগীদের ভর্তি না করতে নোটিশ দেয়া হয়েছে।
ওদিকে শনিবার রাতে রাজনগর সদরে এ নিয়ে মাইকিং করা হয়েছে। প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি মিজবাহুদ্দোজা ভেলাই'র উপস্থিতিতে সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রতিবাদ সভা। সেই প্রতিবাদ সভা থেকে আইসোলেশন সেন্টার অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় তা প্রতিরোধের ডাক দেয়া হয়েছে।





