খালেদ ইমাম ভুঁইয়া মুন্না। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ঘাটুরায়। আশির দশকে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে একটি স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন। সংসারে দায়িত্ব পালন করেছেন বড় ভাইয়ের। ঢাকায় ব্যাচেলর জীবন-যাপন করলেও চাকরিসূত্রে উপার্জিত অর্থের বেশিরভাগই খরচ করেছেন গ্রামের বাড়িতে থাকা ভাইবোনদের পেছনে। পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া জমির পাশাপাশি তিনি আপন ফুপুর বসতভিটার অংশটুকু কিনে ছোট ভাইকে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
সবকিছু ভালোই চলছিল। গোল বাধে যখন যেকোনো কারণে ওই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। চাকরিসূত্রে পাওয়া অর্থ এবং কর্মজীবনের কিছু সঞ্চয় দিয়ে তিনি বাস্তবতার রূঢ়তার সঙ্গে সংগ্রাম করে জীবন-যাপন করছিলেন স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যাসন্তানকে নিয়ে। এর মধ্যেই নানা অনিয়মের কারণে কখন যে দুরারোগ্য কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন, বুঝতেই পারেননি। যখন বুঝতে পারেন তখন বেলা অনেক দূর গড়িয়েছে। এই জটিল রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার নানা পর্যায় শেষ করে শুরু হয় কিডনি চিকিৎসার সর্বশেষ পর্যায় ডায়ালিসিস, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রায় তিন বছর ধরে সপ্তাহে তিন থেকে চারটি ডায়ালিসিস নিতে গিয়ে জীবনের সব সঞ্চয় শেষ করে একমাত্র অবুঝ সন্তান এবং স্ত্রীকে জীবনযুদ্ধের অথৈ সাগরে ভাসিয়ে এখন নিঃস্ব অবস্থায় শেষ পরিণতির অপেক্ষায় দিন গুনছেন তিনি।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়। খালেদের ঘটনাটি একটু ভিন্ন এবং ভয়ানক নির্মম। এবার তিনি শরণাপন্ন হন ভাইদের কাছে। বলেছেন, ‘আমার যা কিছু সঞ্চয় ছিল সবই শেষ। এখন চিকিৎসার খরচ চালানোর জন্য শেষসম্বল জায়গাজমি বিক্রি করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। তাই আমার সব বিষয়-আশয় বিক্রি করে দিতে চাই। যদি তোমরা নিতে চাও, ন্যায্য দাম দিলে তোমাদের কাছেই বিক্রি করব।’
পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া জমি এবং ফুপুর কাছ থেকে কেনা বসতভিটার (যার দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন ছোট ভাইকে) বিষয়ে তিনি এমন আকুতি করেন। কিন্তু তারা রাজি হননি। এ ব্যাপারে ভাইদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেনদরবারও করেছেন। কোনো ফল হয়নি।
নিরুপায় হয়ে বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় তেজগাঁও এলাকার নাখালপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে থেকে শেরেবাংলানগরে কিডনি ইনস্টিটিউটে ডায়ালিসিস নিচ্ছেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে জায়গা-সম্পত্তির বিষয়ে সুরাহা করতে বার বার ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়াও তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই জমি পুনরুদ্ধারও করতে পারছেন না, বিক্রিও করতে পারছেন না। সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সবশেষে কানাডাপ্রবাসী বড় বোনের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। এই বোন ডায়ালিসিস শুরু হলে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন। এরপর তিনিও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এখন কোনো খোঁজখবর নেন না। ন্যায়বিচারের আশায় বড় বোনের কাছে নালিশ দিয়েছিলেন। সেই বোনও তাকে নিরাশ করেছেন। জায়গা-সম্পদ পুনরুদ্ধারেও কোনো সাহায্য করেননি।
অসুস্থতা এবং চলাচলে অক্ষমতার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়ে আইন-আদালতের আশ্রয় নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। স্ত্রীকে পাঠিয়েছিলেন কিন্তু তাকে নানারকম ভয়-ভীতি এমনকি প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়। মুন্না বলেন, এ অবস্থায় কীভাবে হবে আমার চিকিৎসা? আমার অবুঝ সন্তান ও স্ত্রীর ভবিষ্যৎ কী? আমি কি পারব না আমার জায়গা-সম্পদ উদ্ধার করতে? আছেন কি এমন কোনো আইনজীবী বা সংস্থা, যারা জমি পুনরুদ্ধারে আমাকে আইনি সহযোগিতা করতে পারেন? পাশাপাশি সমাজের হূদয়বান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছেও আর্থিক সহযোগিতার আকুল আবেদন জানাচ্ছি। প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন : ০১৭১৫-১৬৯১৬৫ এই নম্বরে।





