সারা দেশ

মুন্সীগঞ্জে টেন্ডার ছাড়াই সরকারী প্রানী সম্পদ ভবন ভেঙ্গে বিক্রির অভিযোগ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১১ ডিসেম্বর, ২০২২

ব.ম শামীম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই সরকারী উপজেলা প্রানী সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবন ভেঙ্গে বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর কর্মকর্তা ডা: মো: নজরুল ইসলাম এ ভবন কোন টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করে টাকা আত্নসাৎ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে। অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মকর্তা নিজেকে মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকনেতা তার আত্নীয় পরিচয় দিয়ে নিজে স্বেচ্ছাচারিতা মতো অফিস করে থাকেন। সপ্তাহে ১ দিনের বেশি অফিস করেন না তিনি। ক্ষমত্বার দাপট দেখিয়ে কোন টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা প্রানী সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের পুরাতন একটি ভবন ভেঙ্গে মালামাল বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। সরকারী সম্পত্তি নিলাম ছাড়াই ভবন ভেঙ্গে মালামাল বিক্রি করায় ওই কর্মকর্তার বিচার চাইছেন স্থানীয়রা।
জানাগেছে— উপজেলা প্রানী সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রবেশ পথে পুরতান প্রানী সম্পদ কার্যালয়ের দুটি পাকা ভবন পরিত্যাক্ত অবস্থায় বেশ কয়েক বছর যাবৎ পরেছিল। ওই পুরাতন ভবনের পাশেই নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেই নতুন ভবনেই চলছে বর্তমান কার্যক্রম। পরে থাকা দুইটি ভবনের মধ্যে নিলাম বা অনুমতি ছাড়াই গত প্রায় ৩ মাস আগে ভাঙ্গার কাজ করে শুরু করেন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: নজরুল ইসলাম দেওয়ান। ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে মালামাল বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। বিক্রির টাকাও দেননি সরকারি কোষাগারের জামা। স্থানীয় বাসিন্দা বাক্কার বেপারীসহ টঙ্গিবাড়ী বাজার এলাকার অনেকের কাছে পুরাতন ইট—রট বিক্রি করেছেন তিনি । এ ভবনটি ছাড়াও পাশের পরিত্যাক্ত অপর একটি ভবন ভাঙ্গার পায়তারা করছেন তিনি বলে জানাগেছে। রবিবার বিকালে সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়— উপজেলা প্রানী সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের পুরাতন দুটি ভবনের মধ্যে একটি ভবন ভেঙ্গে সম্পূর্ণ মালা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে কিছুদিন আগেও সরকারী ভবন ছিল সেখানে এখোন কয়েকটি গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণী কর্মকর্তা ডা: মো: নজরুল ইসলাম দেওয়ানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েক নেতা তার আত্নীয় পরিচয় দিয়ে তাদের জানিয়ে ভবন ভেঙ্গে ফেলেছেন বলে জানান। এছাড়া তিনি আরো বলেন, পুরাতন পরিত্যাক্ত ভবনটিতে মাদকের আখড়া ছিল এছাড়া ওই ভবনে অনেক বিশাক্ত শাপ বসবাস করতো । অপরিস্কার নোংরা অবস্থায় পরে থাকায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: কুমোত রঞ্জন মিত্র মহোদয়কে জানিয়ে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: কুমোত রঞ্জন মিত্রর সরকারী মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নিলাম কমিটি সদস্য সচিব প্রকৌশলী শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, ওই ভবনের কোন নিলাম হয়নি। উপজেলা পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী মো: নাহিদ খান জানান, সরকারি নিয়মনীতি মেনে ভবন ভাঙ্গা প্রয়োজন ছিলো। যদি তিনি নিয়ম না মেনে থাকেন তাহলে প্রশাসন বিষয়টি দেখবে।
এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাসেদুজ্জামান জানান— বিষয়টি সম্পর্কে আজকেই আমি জানতে পেরেছি। সে কিভাবে ভবন ভাঙ্গছে তার সাথে কথা বলে বিষয়টি দেখবো।

 

 

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads