মায়ের মুখ বেঁধে বঁটি দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে ছেলেরা। প্রতিবেশীদের প্রতিরোধে অবশেষে উদ্ধার হন সেই মা। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বীর হাটাবো নাগদা এলাকায়।
জানা গেছে, রাবেয়া বেগমের স্বামী নুরুল ইসলাম জীবিত থাকাকালে চার শতক জমিসহ বসতঘর তার নামে হেবানামা দলিল করে মালিকানা দিয়ে যান। তবে একমাত্র মেয়ে ঝর্ণা আক্তারকে জমি না দিয়ে শুধুমাত্র তিন পুত্র সন্তানদের নামে দেন তিনি। কিন্তু ওই তিন সন্তানের কেউই নিজ মা হিসেবে রাবেয়া বেগমের ভরণ-পোষণ না করায় বাধ্য হয়ে মেয়ে ঝর্ণার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন তিনি।
তাই ভরণ-পোষণ সন্তুষ্টির জন্য মেয়ে ঝর্ণাকে তার মালিকানা থেকে দুই শতক লিখে দেওয়ার জের হিসেবে তার তিন ছেলে কমল (৩৫), আব্দুর রাজ্জাক (৩২) ও জহিরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। ওই বিরোধের জেরে তিন ছেলে মিলে মাকে জেরা করতে থাকে। এক সময় মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে মুখে কাপড় বেেঁধ বটি দিয়ে জবাই করার চেষ্টা করে। এতোক্ষণে পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে তার ছেলেদের হাত থেকে মা রাবেয়া বেগমকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মা। রাবেয়া বেগমের দাবি, তাদের মধ্যে মেঝো ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও ছোট ছেলে জহিরুল ইসলাম নিয়মিত মাদকসেবন করে। তাই তাদের আচরণ ভালো ছিলো না কখনো। কিছু হতে না হতেই মারধর করে। এ সময় তিনি তার ছেলেদের বিচার চেয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানার এএসআই আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করছি। বিষয়টি জমিসংক্রান্ত বিরোধ। আহত মায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।





