জাতীয়

মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন করে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেই

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

২০১৪ এবং ২০১৭ সালে যারা তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) লিখিত ও অনলাইনে আবেদন করেছেন, তাদের আবেদনপত্রগুলোর ওপর শুনানি চলমান রয়েছে। ফলে নতুন করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তির কোনো সিদ্ধান্তই নেয়নি সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। 

জানতে চাইলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) পরিচালক (যুগ্মসচিব) সেলিম ফকির জানিয়েছেন, আপাতত নতুন করে কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেটভুক্ত করার সিদ্ধান্ত সরকারের নেই। ২০১৪ ও ২০১৭ সালে করা আবেদনপত্রগুলোর ওপর শুনানি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক-মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, গেজেটে প্রকাশিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকার বিষয়ে অভিযোগ যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এটি নিষ্পত্তির পর ১৫ ফেব্রুয়ারি খসড়া ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কাজই মূল লক্ষ্য। এছাড়া ২০১৪ সালে অনলাইনে করা আবেদনগুলোর ওপর শুনানি তো চলছে।

জামুকার অনুমোদন ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশিত বেসামরিক গেজেট যাচাইয়ের কাজও শুরু হয়েছে। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর ৩০ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় চলছে। তবে যেসব উপজেলায় ৩০ জানুয়ারি পৌরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে সেসব উপজেলায় সুবিধাজনক দিনে যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। এ কাজ শেষ করতে হবে ১৫ ফেব্রুয়ারির আগে।

উল্লেখ্য, এর আগে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশের অংশ হিসেবে যাচাই-বাছাই বাছাইয়ের কাজ ১৯ ডিসেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও সেই তারিখ বদলে ৯ জানুয়ারি করা হয়। পরে তা বাড়িয়ে ৩০ জানুয়ারি করা হয়।

‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০০২’-এর ধারা ৭ (ঝ)-এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে জামুকার সুপারিশ ছাড়া যাদের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বেসামরিক গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাদের মধ্য থেকে ৩৯ হাজার ৯৬১ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে।

সূত্র জানায়, জামুকার সুপারিশ ছাড়া যাদের নাম বেসামরিক গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাদের নাম সংশোধন করে নতুন করে ৩৮ হাজার ৩৮৬ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেই গেজেটগুলো জামুকার সুপারিশ ছাড়া প্রকাশ হয়েছে বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় স্বীকৃত ৩৩ ধরনের প্রমাণ, যেমন- ভারতের তৈরি তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা, বিসিএস গেজেট কিংবা বিভিন্ন বাহিনী বা অন্য গেজেটে নাম থাকার পরও অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম ৮ ডিসেম্বরের তালিকাতেও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads