মির্জাগঞ্জে শ্রীমন্ত নদীর তীর ভরাট করে পাঁকা স্থাপনা নির্মাণ

মির্জাগঞ্জের শ্রীমন্ত নদীর তীর দখল ও ভরাট করে পাঁকা স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

মির্জাগঞ্জে শ্রীমন্ত নদীর তীর ভরাট করে পাঁকা স্থাপনা নির্মাণ

  • মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের শ্রীমন্ত নদীর সুবিদখালী লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদীর তীর দখল ও ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মান করছেন এক ভূমিদুস্য বিন্তি বেকারীর মালিক মোঃ ফারুক হোসেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই ইট ফেলে ভরাট ও অবৈধ স্থাপনা নির্মান করায় নদী ক্রমশই ছোট হয়ে আসছে।

ফলে নদী ভরাট ও দখলের কারনে এক সময় পানি চলাচল ব্যাহত হয়ে শ্রীমন্ত নদীর নাব্যতা হারাবে এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের। উপজেলার প্রধান নদী শ্রীমন্ত নদীর পাশ ঘেষা পূর্ব সুবিদখালী গ্রাম সংলগ্ন লঞ্চঘাটের পশ্চিম পাশের্^ নদীর বড় একটা অংশ দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা (স্ব-মিল) নির্মানের কাজ পুরো দমে চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে হরহামেশাই এমন কাজ করছেন বিন্তি বেকারীর মালিক মোঃ ফারুক হোসেন। ফারুক হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় লোককে ম্যানেজ করে নামে-বেনামে একাধিক সরকারি জমি দখল করে দোকান ঘর উত্তোলন করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

এ ছাড়াও একই স্থানের মোঃ কাসেম তাঁর নিজ নামে ৩ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে ঘর উত্তোলন করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু রাতের আধাঁরে কাসেমসহ তাঁর পরিবারের লোকজনকে বের করে দিয়ে কাসেমের জমি ও ঘর দখল করে বসবাস করছেন ফারুক হোসেন। এ যেন দেখার কেউ নেই। অথচ যেখানে এই ভূমিদুস্য অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর অতি নিকটেই উপজেলা ভুমি অফিস। ভূমি অফিসের লোকজন নদীর তীর দখল ও ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মানের কর্মযজ্ঞ দেখেও না দেখার ভান করে চলে যান।

এভাবে নদী তীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মান করতে থাকলে নদী ছোট হয়ে পড়বে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ চরমভাবে বিঘ্নিত হবে। তাই নদী তীরবর্তী সরকারি জমি দখল করে যারা স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মান করছেন তা উচ্ছেদ করে নদী দখলমুক্ত ও নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতের দাবী জানান এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে নদীর তীর ও সরকারি জমি দখলকারী মোঃ ফারুক হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কাজ শুরু করেছিলাম। তবে অফিস কর্তৃপক্ষ আমাকে অনুমতির জন্য লিখিত আবেদন করতে বলেছেন। আমি সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃপক্ষের বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ বেলায়েত হোসেন নদী তীরবর্তী সরকারী জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মানের ব্যাপারে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি কিছু জমি লিজ নিয়েছেন। তবে পাকা স্থাপনা নির্মান ও নদীর তীর ভরাটের জন্য কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। তিনি যে পরিমান জমি লিজ নিয়ে ভোগ-দখল করছেন তা মেপে বাকী সরকারি জমি উদ্ধার করা হবে। তবে নদীর তীর দখল করে ভরাট করে কোন স্থপনা নির্মান করতে দেয়া হবে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মনজুর হোসেন বলেন,অফিসের সার্ভেয়ার বেলায়েত হোসেনকে সরেজমিনে পাঠানো হয়েছে। সত্যতা পেলে দখলকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads