ছোটবেলা থেকেই আঁকতে পছন্দ করতেন। রান্না করা ছিল শখ। কিন্তু পরিবারের কড়া শাসন ও পড়াশোনার ভেতর দিয়ে বেড়ে ওঠার কারণে পছন্দ বা শখের কিছুই তেমন করতে পারতেন না। বাড়ির বাহিরে বা কোথাও মা বের হলে সেই ফাঁকফোকরে পুতুলের জন্য জামা বানাতে বসে যেতেন। করতেন টুকিটাকি রান্নাবান্না।
মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরুনোর আগেই বসেছিলেন বিয়ের পিঁড়িতে। সেটি ১৯৯৭-এর কথা। শিক্ষক স্বামীর সঙ্গে শুরু করলেন নতুন সংসার, নতুন পথচলা। বিয়ের পর চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করলেও এরপর আর বইখাতার সঙ্গে গড়ে ওঠেনি বসতি।
যার গল্প বলছি তিনি দেলোয়ার হোসেন ও মাহবুবা বেগমের চার সন্তানের সবচেয়ে বড় সন্তান দিলারা সারমিন। ২০০৪ সালে হুট করেই সেলাই প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। সেখান থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা বলে তিনি জানান। নিজে দক্ষ না হলে অন্যকে ভালো সেবা দেওয়া যায় না বলে একের পর এক প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন তিনি। ব্লক বাটিক, হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, হ্যান্ডিক্রাফট, পটারি ডেকোরেশনসহ বেশ কিছু প্রশিক্ষণ নেন।
দিলারা সারমিন বলেন, নিজে দক্ষ না হলে অন্যকে ভালো কিছু দেওয়া যায় না। সেজন্য উদ্যোগ হাতে নেওয়ার আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং নেওয়া শুরু করি।
উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে দিলারা সারমিন বলেন, আমার মা অনেক কিছুতে পারদর্শী ছিলেন। মায়ের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে চাওয়াটাই আমার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের সবচেয়ে বড় কারণ।
প্রশিক্ষকের মাধ্যমে উদ্যোক্তা জীবনের পথচলা শুরু করেন তিনি। কারণ এতে ঘরের বাইরে বেরুনোর প্রয়োজন পড়তো না। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের বিষয়াদি নিয়ে গলির সামনে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন। কারো কাছ থেকে সাপোর্ট না পাওয়ার কারণে পথটা ছিল কর্কটময়। বিভিন্ন প্রতিবদ্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে একদিন হয়ে উঠলেন চট্টগ্রামের পিডিলাইটের একজন ট্রেইনার। তারপর কয়েকজনের সহযোগিতায় একের পর এক নতুন পথের ঠিকানা পেতে শুরু করলেন বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, বৈশাখী মেলায় মহুয়া আপুর সহযোগিতায় স্টল পেয়ে গেলাম। কিন্তু কি নিয়ে স্টলে বসব, সেসব নিয়ে পরে গেলাম টেনশনে। তারপর নিজের তৈরি কিছু প্রডাক্ট ও পাটিসাপটা পিঠা নিয়ে বসলাম।
বিভিন্ন বাধা, প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের রংতুলি নিয়ে বারবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। নারী হিসেবে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে পরিবার সবচেয়ে বড় বাধা বলে তিনি মনে করেন।
তার উদ্যোগের মাধ্যমে বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছেন। বিভিন্ন কাজের ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি অনেক কিছু নিয়েই কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে— পেইন্টিং, ব্লক, বাটিক, ঘরসাজানোর নান্দনিক জিনিসপত্র, হ্যান্ডমেইড গহনা ইত্যাদি।
প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে নতুনত্ব আনার গুরুত্ব অপরিসীম। নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
সারমিন’স ওর্য়াল্ডের কর্ণধার দিলারা সারমিন বলেন, নারী-পুরুষ সকলে সবাইকে সহযোদ্ধাভেবে সহযোগী করলে পথচলায় কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকতো না। বরং প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হতো।





