মালদ্বীপ প্রবাসী রাজন হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

মালদ্বীপ প্রবাসী রাজন হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

  • কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৮ জুলাই, ২০২২

ঢাকার কেরানীগঞ্জে মালদ্বীপ প্রবাসী রাজন মন্ডলকে (৩২) লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে রাজন হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রাপুর বাস স্ট্যান্ড ঢাকা মাওয়া সড়কে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন গোবিন্দপুর পাঁচ গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক হিন্দু পরিবার ও এলাকাবাসী। এ সময় মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারীদের হাতে রাজন হত্যার বিচার সম্বলিত প্লে- কার্ড হাতে নিয়ে শ্লোগান দিতে দেখা যায়। 
জানাযায় গত ৬ জুলাই বুধবার সকাল ৯ টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার চিত্রকোট ইউনিয়নের গোয়ালখালী গ্রাম থেকে হাত বাধা ফ্যানের সাথে ঝুলানো অবস্থায় রাজন মন্ডলের শ্বশুর বাড়ির থেকে লাশটি উদ্ধার করে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। ময়না তদন্ত শেষ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজনের পরিবারটির কাছে লাশ হস্তান্তর করে। 
রাজনের ছোট ভাই নীল রতন মন্ডল বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন।

রাজন মন্ডলের বড় ভাই সমীর মন্ডল গণমাধ্যমকে বলেন, তার ছোট ভাই রাজন মন্ডল এর সাথে এক মাস আগে সিরাজদিখানের চিত্রকোট ইউনিয়নের বোয়ালখালী গ্রামের মৃত চিনিবাস সিদ্ধার মেয়ে ও অজিত মন্ডলের ভাগ্নির পূর্ণিমা সিদ্ধার সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের বাসরের দিন ছেলে জানতে পারে তার স্ত্রী পূর্নিমার সাথে অন্য কারো সম্পর্ক আছে। সেদিন থেকেই তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল, তাই পূর্ণিমা তার বাবা বাড়িতে অবস্থান করছিল। গত ৩ জুলাই রবিবার পূর্ণিমার খালাতো ভাই পার্থ মন্ডল রাজনকে বেড়ানোর কথা বলে মোটরসাইকেলে করে পূর্নিমার বাড়িতে নিয়ে যায়। গত বুধবার সকালে মুঠোফোনে জানানো হয় রাজন গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সমীর মন্ডলের দাবী আমার ভাই আত্মহত্যা করতে পারে না, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমি এই হত্যার বিচার চাই।

রাজনের বাবা নিত্য গোপাল মন্ডল গনমাধ্যমকে বলেন, আমার ছেলেকে পার্থ মন্ডল পূর্ব পরিকল্পনা করে আমার বাড়ি পূর্নিমাদের নিয়ে যায়। পার্থ মন্ডল এর সাথে পূর্নিমার সম্পর্ক ছিল বলে রাজনের বাবার দাবী।। আর এই পার্থ সরাসরি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। 

নিত্য গোপাল এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। 

জানা যায়, রাজন মন্ডল ৬/৭ মাস পূর্বে মালদ্বীপ থেকে আসে। বড় ভাইকে বিয়ে করিয়ে তিনিও বিয়ে করেন। রাজন বিদেশে একটি জেনারেল এসির দোকান জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কাজ করত। তিনি আগামী মাসে মালদ্বীপ যাওয়ায় কথা থাকলেও রাজনের শেষ পরিনতি হয় শশ্বান। 

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজদিখান থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই ফয়জুর রহমান বলেন, রাজন হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞেসাবাদ চলছে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads