সারা দেশ

মাটি ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটদের ধাবায় কৃষি জমি হচ্ছে ডোবা নালা পুকুর   

  • ''
  • প্রকাশিত ১৭ মার্চ, ২০২৪

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মাটি ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটের ধাবায় কৃষি জমি হচ্ছে ডোবা, নালা,পুকুর। এই মাটি ব্যবসা কে ঘিরে  গড়ে উঠেছে  একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এর সাথে জড়িত রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে ক্ষমতাশীন দলের প্রভাবশালী এক নেতার আত্মীয় ও তার অনুসারীরা।

দিনে মাটি কাটা  বন্ধ হলেও রাতে চলে মাটি কাটার মহোৎসব। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বশীলরা রাতে মাটি কাটা বন্ধে পদক্ষেপ নিতেও ভয়পান ঐ সংঘবদ্ধ মাটি খেকোদের। এই সুযোগে  মাটি ব্যবসায়িরা শত শত বিঘা কৃষি জমি কেটে ডোবা, নালা জলাশয়ে পরিণত করছে।এতে একদিকে সংকুচিত হচ্ছে  কৃষি  জমি  অন্য দিকে খাদ্য ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা  রয়েছে। স্থানীয়  কৃষকরা প্রশাসনের  নিকট মাটি কাটা বন্ধে আবেদন দিয়েও কোন ক্রমেই  থামছেনা মাটি কাটা ।

রাতে ও দিনে সামান তালে চলছে মাটি কাটার হিড়িক। শুরুতেই মাটি কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায়  স্থানীয়  কৃষকদের  মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এসব  মাটি আবার বিক্রি হচ্ছে ইট ভাটায়। কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের  ৩০- ৪০ টি  স্থানে ভেক্যু দিয়ে  দেদার চলছে  মাটি কাটা ও পুকুর খননের  কাজ।  প্রতি  দিন  শত শত বিঘা জমির টপসয়েল কেটে সাবাড় করছে  মাটি খোকোরা । পুকুর খননের নামে এসব ফসলি জমির মাটি বিক্রি করছে   ইটভাটায় ।  মাটি বিক্রির একটি  সিন্ডিকেট। উপজেলায় বৈধ অবৈধ মিলে মোট ৬৫ টি ইট ভাটা রয়েছে । এসব ইট ভাটার মধ্যে অধিকাংশই ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে লোকালয়ে। এসব বৈধ ইট ভাটায় বছরের পর বছর চললে প্রশাসনের কোন কার্যকরী পদক্ষেপ  নেই। 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় ,চারিগ্রাম জামির্ত্তার হাতনী ,রামনগর  জামশা,গাইসেরট্যাক, গোলাইডাংগা, খৈয়ামুরি, জ্যাইলা  ভেরুন্ডি খোলা পাড়া ,এরকম৷ ২০- ৩০ টি স্থানে অনুমোদন হীন ভেক্যুদিয়ে অবাধে চলছে মাটি কাটা । ঐসব  মাটি কাটার সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছে চারিগ্রামের খোরশেদ , জামির্ত্তার মনির, জাকির, রিপন, জামশার  বাদল, পাড়ার সুরজ, মহুর , ইয়াছিন, চান্দহর ইউনিয়নের মালেক গংরা। এসব মাটি অবৈধ মাহিন্দ্র ট্রাকটরদিয়ে  নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন  ইটভাটায়। এতে উপজেলার  এলজিইআরডির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় মাটি পড়ে বৃষ্টিতে ভিজে পিছিল কাঁদা আর রোদে শুকিয়ে ধূলো বালিতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পথচারীরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কুমার  বসু  বলেন  কৃষি জমির মাটিকাটার বিষয়ে  কোন ছাড়নেই। ইতঃমধ্যে কৃষি জমিতে মাটি কাটা বন্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads