মাছ ধরার চাই তৈরি করে স্বাবলম্বী গৌরনদীর অনেক পরিবার

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

মাছ ধরার চাই তৈরি করে স্বাবলম্বী গৌরনদীর অনেক পরিবার

  • গৌরনদী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৫ জুলাই, ২০২২

মাছ ধরার চাই তৈরির জন্য বিখ্যাত গৌরনদী উপজেলার দোনারকান্দী গ্রাম। এ গ্রামে কবে কখন কে চাই তৈরি করার কাজ প্রথম শুরু করেছেন তা সঠিকভাবে বলতে না পারলেও প্রবীণরা জানিয়েছেন, প্রায় দু’শ বছর ধরেই এ গ্রামে চাই তৈরি ও বিক্রি চলছে। বংশ পরম্পরায় এ গ্রামের ৪০০ পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে চাই তৈরি করে। গ্রামের পুরুষেরা বর্ষা মৌসুমের ছয় মাস চাই তৈরি ও শুষ্ক মৌসুমে দিনমজুরের কাজ করেন।

দোনারকান্দী গ্রামের তৈরি করা চাই বিক্রি হয় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার হাট-বাজারে। গ্রামটির নাম দোনারকান্দী হলেও চাই তৈরি করতে গিয়ে গ্রামের নাম হয়েছে ‘গৌরনদীর চাই পল্লী’। নানাবিধ সমস্যার মধ্যে বংশ পরম্পরায় এ গ্রামের বাসিন্দারা চাই তৈরির পেশাকে ধরে রেখেছেন।

চাই তৈরির প্রধান উপকরণ বাঁশ, বেত ও লতার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই অর্থাভাবে মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে টাকা এনে চাই বানাচ্ছেন।

গ্রামের বাবুদাস বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। হরলাল বৈদ্যর পুত্র প্রশান্ত বৈদ্যও স্নাতক শ্রেণীতে পড়ছেন। তারা জানান, লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের সাথে চাই বুনতে তারা সহযোগীতা করে থাকেন। শুধু বাবু ও প্রশান্তই নয় গ্রামের প্রত্যেকটি ঘরের ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনার পাশাপাশি চাই তৈরির কাজে পিতা-মাতাকে সাহায্য করে থাকে। বর্ষা মৌসুম এলেই পরিবারের সকলের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়।

দোনারকান্দী গ্রামের হরলাল বৈদ্য (৬৬), নলিনী বৈরাগী (৭০) সহ অনেকেই জানান, দু’শ টাকার তাল, বাঁশ, দু’শ টাকার কৈয়া লতা দিয়ে একেকজন শ্রমিক ৫ দিনে এককুড়ি (২০টি) চাই তৈরি করতে পারেন। মহাজনদের কাছ থেকে দাদন আনার ফলে তাদের কাছে প্রতি কুড়ি চাই পাইকারি হিসেবে বিক্রি করা হয় ১২ থেকে ১৬শ’ টাকায়। বাজারে যার দাম ২ হাজার থেকে ২৫’শ টাকা।

ওই গ্রামের লক্ষণ বৈরাগী জানান, তাদের গ্রামের তৈরি চাই স্থানীয় গৌরনদীর মাহিলাড়া, পয়সারহাট, সাহেবেরহাট, ধামুরাসহ বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠী, ঘাঘর, শশীকর, নবগ্রাম, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার হাট-বাজারে বিক্রি করা হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads