যশোরের মণিরামপুরে দুইটি পাঁকা সড়কের পাকাকরণের কাজে নিম্নমানের পিচ ও খোয়া ব্যবহার করায় কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক দুইটির কার্পেটিং পিচ তুলে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ঠিকাদাররা বলছেন, নির্মাণ কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে,একটি চক্র তাদের কাছ থেকে সুবিধা নিতে তারা নির্মাণ কাজের পিচ তুলে ফেলছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শ্যামকুড় ইউনিয়নের আমিনপুর মান্দারতলা থেকে লক্ষ্মণপুর পর্যন্ত সড়কটির পিচের কাজ চলমান অবস্থায় কার্পেটিং তুলে ফেলে স্থানীয়রা। এমনকি স্থানীয়রা অনিয়মের অভিযোগে চলমান রাস্তাটির কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর একটি চক্র ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের সুবিধা নিয়ে কাজ করতে পুনরায় সুযোগ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই রাস্তার কাজ এখনও চলমান রয়েছে।
অপরদিকে, উপজেলার মুজগুন্নী গ্রাম থেকে কালিগঞ্জ মোড় পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়কের পাকাকরণের কাজ শেষ হয় ১০ দিন আগে। সোমবার দুপুরে বহিরাগত কয়েকজন যুবক সড়কের শরিফের রাইচ মিলের সামনে কিছু অংশের কার্পেটিং তুলে ফেলেন। তাদের অভিযোগ, নির্মাণ কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার, কার্পেটিং এর আগে পর্যাপ্ত প্রাইমকোর্ট (কালো তেল) ব্যবহার না করা হয়নি। পরিমানে কম পিচ দেওয়ায় সড়কটির কার্পেটিং ফেটে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ গোলাম ও শরিফ হোসেন বলেন,রাস্তা ফেটে যাওয়ায় কয়েকজন যুবক এসে কার্পেটিং পিচ তুলে ফেলছে। এরপর সাংবাদিক পরিচয়ে কয়েকজন ছবি তুলছে। যারা তুলেছে তারা এলাকার কেউ না।
একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, একটি চক্র রাস্তার পিচ তোলার কাজে সাংবাদিকদের নামও ব্যবহার করে ঠিকাদারের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী নেয়ামত হোসেন সড়ক দুটির কাজ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে তার নিয়ন্ত্রণে মণিরামপুরে চলমান রাস্তাগুলোর কাজে বেশী অনিয়ম হচ্ছে। ঠিকাদারদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নেয়ামত হোসেন ঠিকমত রাস্তার কাজ দেখভাল করেন না বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে জানতে একাধিকবার মোবাইলে কল করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি উপ-সহকারী প্রকৌশলী নেয়ামত হোসেন।
আমিনপুর মান্দারতলা থেকে লক্ষ্মণপুর পর্যন্ত সড়কটির ঠিকাদার আবু সাইদ বলছেন, নির্মাণ কাজ সঠিকভাবে হয়েছে, তাদের কাছ থেকে একটি চক্র সুবিধা নিতে নির্মাণ কাজের পিচ তুলে ফেলছে।
মুজগুন্নী গ্রাম থেকে কালীগঞ্জ সড়কটির ঠিকাদার শাহিনুর কবীর শাহিন বলেন, ১০ দিন আগে কার্পেটিং-এর কাজ শেষ হয়েছে। রাস্তার ভিডিও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার রেজাল্টও হাতে পেয়েছি। সঠিক নিয়মে কাজ হয়েছে। যারা কার্পেটিং তুলেছে তাদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেব।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল হক বলেন, কাজের মান নিয়ে অভিযোগ থাকলে লোকজন আমাকে জানাতে পারতেন। তারা কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলে তারা ঠিক করেননি।





