সারা দেশ

ভোলায় লকডাউনে চোর পুলিশ খেলা, ২১ জনের কারাদণ্ড 

  • অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা
  • প্রকাশিত ২৬ জুলাই, ২০২১

করোনা মহামারি সামালাতে গত ২৩ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফা কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার৷ করোনার ঊর্ধ্বগতিতে টানা দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। জরুরি সেবা ছাড়া বাকি সবকিছুই বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু ভোলায় ব্যবসায়ী আর প্রশাসনের মধ্যে চলছে লুকোচুরির খেলা। যেন এই লকডাউনের মাথা ব্যথা শুধুই প্রশাসনের। ম্যাজিস্ট্রেট আসলেই দোকানের মধ্যে বেচাকেনা অবস্থায় কাস্টমারসহ সাটার ডাউন হচ্ছে। আবার চলে গেলেই খুলে যাচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। লকডাউন নয়, এ তো যেন চোর পুলিশের খেলা। সামনে দিয়ে বন্ধ সবই, পিছন দিয়ে খোলা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ছাড় দেয়া হচ্ছে না । নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বেচাকেনার দায়ে ২১ ক্রেতা-বিক্রেতাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। 

সরেজমিনে শহরের চকবাজার, হক ম্যানশন, মহাজন পট্টি, ওয়েষ্টার্ন পাড়া, জিয়া মার্কেট, হক মার্কেট, ঘোষপট্টি ও সদর রোড ঘুরে দেখা গেছে বেশ কিছু দোকান অর্ধেক সাটার খোলা। সেখানেই চলে ব্যবসা। কিন্তু পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট আসলেই বন্ধ করে ফেলা হয় সাটার। কোনো কোনো দোকানের মধ্যে ক্রেতা রেখেই বাহির থেকে বন্ধ রাখার ঘটনা পাওয়া গেছে। বন্ধ থাকা প্রতিটি দোকানের সামনে একজন করে লোক দাড়িয়ে আছেন। পথচারীর ইশারা বুঝতে পারলে সাটার অল্প তুলে তাকে দোকানের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। বন্ধ প্রতিটি দোকানের মধ্যে একাধিক ক্রেতা কেনাকাটা করছেন। 

তবে এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ছাড় দেয়া হচ্ছে না। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের চকবাজার, সদর রোড, হক ম্যানশন ও হক মার্কেটসহ বেস কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে দোকানের সাটার বন্ধ করে বেচাকেনার দায়ে ২১ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

অপরদিকে লকডাউনের কারণে লঞ্চ, সিট্রাকসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও থেমে নেই যাত্রা। চলছে স্প্রিড বোট, ট্রলার। স্বাভাকিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নিয়ে এসব নৌযান ভোলা লক্ষ্মীপুর রুটের ডেঞ্জার জোনে যাত্রী পারাপার করছে। যদিও মাঠে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ র‌্যাব পুলিশের টহল। এরপরও থেমে নেই এসব অনিয়ম। এ যেন লকডাউন নিয়ে লুকোচুরির খেলা। তবে ইলিশা ঘাট এলাকা থেকে সোমবার সকালে পুলিশ অবৈধ ট্রলার পরিচালনা চক্রের দুই হোতাকে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এনায়েত হোসেন। 

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ও লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রিদওয়ানুল ইসলাম জানান, সরকারি বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা, মাস্ক না পড়া ও স্বাস্থ্য বিধি না মানায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি ৩৯ জনকে ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। 

তিনি আরো জানান, শহরের সবগুলো প্রবেশ পথে চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে, যাতে যৌক্তিক প্রয়োজন ছাড়া কেউ শহরে প্রবেশ করতে না পারেন। আমরা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি, তারা যেন এই বিধিনিষেধ মেনে চলে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads