কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নির্মাণাধীন ভবনের তিন তলার ছাদ থেকে ছিটকে পড়া সেই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নিহত শ্রমিকের নাম সারওয়ার হোসেন শিমুল(৪০)। বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার আমনূরা গ্রামে।
এর আগে, গত ৩১ জানুয়ারি দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্প্রসারিত অংশের কাজ চলাকালীন সময়ে অসাবধানতাবশত তিন তলা থেকে নিচে পড়ে যান সারওয়ার। এ সময় বাঁ পা সহ শরীরের বেশ কিছু জায়গায় মারাত্মকভাবে আঘাত পান তিনি।
আহত অবস্থায় শ্রমিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে কুমিল্লা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
এছাড়া গত বছরের ২ ডিসেম্বর এ ভবন থেকে পড়ে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়। নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ষ্টারলাইট সার্ভিসেস এর গাফিলতির কারণেই বারবার এমন দূর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ এই হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের। তারা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন বলেও অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. মিলনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু এবং নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের সহকারী পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘ শ্রমিকের মৃত্যুর ব্যাপারে আমি আগে জানতাম না আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের করার কাজ প্রকৌশল দফতরের।’ তবে প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম. শহিদুল হাসান বলেন, ‘পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতর আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেয় আমরা সেভাবেই কাজ করি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে নির্দেশনা দেওয়া হলে আমি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার(অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘ আমি বিষয়টি মাত্রই জানলাম । এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।





