ব্যাগে শিশুর মাথা, আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ পুলিশের

প্রতীকী ছবি

সারা দেশ

ব্যাগে শিশুর মাথা, আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ পুলিশের

  • নেত্রকোনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২০ জুলাই, ২০১৯

নেত্রকোনায় ব্যাগে শিশুর কাটা মাথা বহনকারী রবিনকে গণপিটুনিতে হত্যার পর থেকে জেলার সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত তিনদিন ধরে সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই আটকাচ্ছে জনতা। কোথায়ও কোথায়ও আটকেরা শিকার হচ্ছে মারধরের। আবার কোথায়ও জনসাধারণ আছেন ছেলে ধরা আতংকে।

নেত্রকোনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সবাইকে আতংকিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়া সন্দেহজনক কাউকে পেলে তাকে মারধর না করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে প্রেস ব্রিফিংয়ের মধ্যমে অনুরোধ করছেন ওই জেলা পুলিশ।

এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা ১২টার দিকে নেত্রকোনা শহরের পারলা এলাকায় এক যুবককে সন্দেহ হলে জনতা আটাকায়। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে নিয়ে আসে। যুবকের নাম জীবন (২০)। সে ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদামের বাবুল মিয়ার ছেলে অটো চালক। তার কাছ থেকে পুলিশ ড্যান্ডি জাতীয় নেশা উদ্ধার করেছে।

এদিকে মডেল থানায় আরেক আটককৃত ফারুক (৪০) নামের যুবক পরিচয় দিচ্ছে কখনো তার বাড়ি ঢাকার পল্টন আবার কখনো বলছে কুমিল্লার লাঙ্গলকোট।

সদরের মডেল থানার উপ পরিদর্শক এস আই আউয়াল এমন তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এমন বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন জনকে আটকের পর নাম দিচ্ছে। এরা একেকবার এক এক নাম ঠিকানা বলছে।

এছাড়া একই সময়ে দূর্গাপুর উপজেলার সাধুপাড়া এলাকায় টিএস খান (১৭) নামের এক কিশোর আটক হয়েছে। সে ভিক্ষা করতে গেলে এক বাড়িতে ওই নারীর সন্দেহ হলে আশপাশের বাড়ির লোকজন ধরে দিয়ে পুলিশ ডেকে থানায় দেয়। অন্যদিকে আটপাড়ার সুতারপুর মাদ্রাসার পাশে রাত তিনটার দিকে অপরিচিত দুই যুবককে এলাকাবাসী ধাওয়া করে। তারা পুকুরে ঝাপ দিলে তাদেরকে ধরে এনে গাছের সঙ্গে বেধে রেখে সকালে পুলিশে দেয়।

এদিকে এসব ঘটনায় শনিবার সকালে সাতপাই আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে সমাবেশ করেছে জেলা পুলিশ। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম সকলকে সতর্ক থাকার এবং গুজবে কান না দেয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়াও তিনি জামে মসজিদে নামাজ শেষে সতর্ককরণ বক্তব্য রাখেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে শহরের সুইপার কলোনির পাশে হাতে ব্যাগ নিয়ে মদ্যপান করে ঘোরার সময় জনতা ব্যাগধারীকে ধাওয়া করেল নিউটাউন এলাকার অনন্ত পুকুরপাড়ে তাকে আটক করে। এ সময় ব্যাগে তল্লাশি করে একটি খণ্ডিত মাথা পেলে উত্তেজিত জনতার হাতে ব্যাগ বহনকারী রবিন নিহত হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে নিয়ে যায়। এসময় কিছু পুলিশকেও ধাওয়া করে উত্তেজিত জনতা। পুলিশ খণ্ডিত মাথার সঙ্গে থাকা বরফের মতো জিনিসসহ কিছু মেডিসিন উদ্ধার করে।

বিকালে শহরের কাটলি এলাকার মোশারফ হোসেনের নির্মাণাধীন তিনতলা বিল্ডিংয়ের টয়লেট থেকে গোয়েন্দা পুলিশ শিশুর শরীরের কাটা বাকী অংশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, এটি শুধু মাত্র একটি হত্যাকাণ্ড। এর সাথে পদ্মা সেতুর কোনো সর্ম্পক নেই। একটি মহল বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে সামজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে শিশু হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত নির্মম বর্বরতা। এ ব্যাপারে  জেলা পুলিশ শুক্রবার প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য দেন।

পরবর্তীতে সন্দেহজনকভাবে ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও জিজ্ঞাসা শেষে তিনজনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এছাড়া নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads