হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঢাকার মালিবাগ বাসা থেকে মা-মেয়ে গিয়েছিলেন বেইলি রোডের কাচ্চি ভাইয়ে। রাতের খাবার শেষে আবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল আপন নীড়ে। কিন্তু সেটি আর সম্ভব হয়নি। আগুন পুড়িয়ে দিয়েছে সব স্বপ্ন। মা-মেয়ের রাত কাটাতে হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে।শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে নিকট আত্মীয় অয়ন রায় নিহত মা রুবি রায় এবং মেয়ে প্রিয়াঙ্কা রায়ের মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
এর আগে রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনের অগ্নিকাণ্ডে হবিগঞ্জের মাধবপুরের বাসিন্দা ও ফিলিপাইনের নাগরিক মা-মেয়ে নিহত হন।নিহতরা হলেন- মাধবপুর উপজেলায় বানেশ্বরপুর গ্রামের পোল্যান্ড প্রবাসী উত্তম কুমার রায়ের স্ত্রী রুবি রায় (৪০) ও মেয়ে প্রিয়াংকা রায় (১৭)।
নিহত রুবি ফিলিপাইনের নাগরিক। প্রায় ২৮ বছর আগে বাংলাদেশি নাগরিক উত্তম কুমারের সঙ্গে তার বিয়ে হয় বলে জানা গেছে। নিহতদের পরিবারের বরাতে মাধবপুর থানা পুলিশ জানায়- গত বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেইলি রোডে ‘কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁ’ থেকে খাবার আনতে যান মা রুবি ও মেয়ে প্রিয়াংকা। এ সময় সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মা-মেয়ে নিহত হন।
নিহত প্রিয়াংকার বড় চাচা বিষ্ণু রায় বলেন, উত্তম ১৯৯৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি কোম্পানিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় সেখানে ফিলিপাইনের নাগরিক রুবি রায়কে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে উত্তম পোল্যান্ড যান। এ সময় তিনি স্ত্রী-কন্যাকে দেশে রেখে গিয়েছিলেন। মা-মেয়ে রাজধানীর মালিবাগে থাকতেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে উত্তম রায় পোল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
মাধবপুরের স্থানীয় সাংবাদিক হামিদুর রহমান জানান, দুপুর ২ টার দিকে মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছতে পারে।উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার রাতে বেইলি রোডে বহুতল একটি ভবনে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন জানা গেছে। নিহতের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী ও ৮ জন শিশু রয়েছেন।





