বাংলাদেশে বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদন হচ্ছে জি নাইন জাতের কলা

কৃষক দেলোয়ার হোসেন নিজ বাগানের জি নাইন কলার পরিচর্যা করছেন

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

বাংলাদেশে বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদন হচ্ছে জি নাইন জাতের কলা

  • রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর
  • প্রকাশিত ২৩ নভেম্বর, ২০২০

এরই মধ্যে শীত প্রধান দেশের ফুল টিউলিপ চাষে বাংলাদেশে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন ফুলচাষি কৃষক। দীর্ঘদিনের ধারনা ছিল টিউলিপ ফুল এ দেশে চাষ অসম্ভব। তবে দৃঢ় মনোবল আর চেষ্টায় সাফল্য দেখিয়ে তাক লাগিয়ে ছিলেন ফুলচাষি হিসাবে ব্যাপক সফলতা অর্জনকারী চাষি দেলোয়ার হোসেন। গত বছর তার টিউলিপ বাগান দেখতে শত শত মানুষের ভীড় পড়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ নান্দনিক টিউলিপ ফুল দেখতে তার বাগানে ছুটে আসেন। গণমাধ্যমের সংবাদ দেখে ছুটে আসেন কৃষি অধিদপ্তের বড় বড় কর্মকর্তারা। কৃষক ও ফুলচাষি দেলোয়ারের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পৌর শহরের কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামে। তিনি এ গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে।

এবার তিনি তাক লাগিয়ে দিলেন ব্যতিক্রমী জি- নাইন(G-9) কলার বাম্পার ফলন ঘটিয়ে। এর মধ্যে গাছে গাছে বিশাল আকারের কলার ছরি শোভা পাচ্ছে। কলা বাগানের শতাধিক গাছে সবুজ সতেজ বড় বড় সাইজের (আকারের) কলা ধরেছে আশানুরুপ। পোকামাকড়ের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাদা টিস্যু ব্যাগে মোড়ানো রয়েছে। দেশে জি নাইন কলা চাষে তিনি প্রথম সফল চাষি হিসাবে দাবি তার।

কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, বাংলাদেশে প্রায় তিন বছর ব্যক্তিগত গবেষণা করে ইজরাইল থেকে আসা জি নাইন জাতের কলার বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন তিনি। তিনি বলেন, গাছগুলো দেখতে অন্য সাধারন কলাগাছের তুলনায় অনেক বেশি সজীব ও সতেজ। কলাও আকারে বড়। পুষ্টিগুণও অনেক বেশি রয়েছে এ জি নাইন কলাতে।

দেলোয়ার আরো বলেন, কৃষি কাজে যুক্ত থাকার সুবাদে তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। অন্যান্য দেশে স্বল্পব্যয়ে কৃষক কলা চাষে অনেক বেশি সফলতা পেয়েছে। এ বিষয়ে তিনি কৌতুহলী হয়ে ভিন্ন জাতের এ কলা চাষ ও কলার জাত সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। খোঁজ নিয়ে তিনি ভারতের পুনে থেকে জি নাইন জাতের কিছু টিস্যু কালচার চারা বাংলাদেশ নিয়ে আসেন। নিজের জমিতে সেগুলো পরীক্ষামুলকভাবে রোপণ করেন। রোপনের পর সেগুলো থেকে আশানুরূপ ফল পেয়েছেন। তিনি বলেন, এই কলা খেতে অন্য কলার তুলনায় অনেক বেশি সুস্বাধু। এর আকার তুলনামূলক অনেক বড়। অন্য জাতের কলার তুলনায় এই জাতির কলার ছড়িতে ৪০ থেকে ৬০ হালি কলা পাওয়া যায়। যা বাজার দর সাড়ে চারশ থেকে পাঁচশ টাকা বিক্রি করা যাবে। একই রোপনের দ্বিতীয় বছরে ফল আরো বেশি হয়। আর তাতে লাভের পরিমানও দ্বিগুন বলা চলে। এই কলার রপ্তানি বাজার খুবই ভালো। কলার গায়ে যদি বিশ্ব বাজারে চাহিদার মত রঙ আনা যায় তাহলে এই কলা রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা খুবই সহজ। তবে রঙ আনতে হলে যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তা অনেক ব্যয়বহুল। তৃণমূলের কৃষকের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা কষ্টসাধ্য। তাই কলা প্রসেসিংয়ের জন্য সরকারি সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। 

তিনি বলেন, এই কলার জাত দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হলে চারা উৎপাদন করতে হবে। চারা উৎপাদনের জন্য টিস্যু কালচার ল্যাব স্থাপন করা বাধ্যতামুলক। আর এই প্রক্রিয়াটিও সরকারি সহযোগিতা ছাড়া একজন কৃষকের জন্য ব্যয়বহুল ও অসম্ভব । তিনি বলেন সরকারী উদ্যাগে এ কলা চাষে কৃষকদের সহযোগিতা করতে হবে। তাতে আগ্রহী চাষি বাড়বে। জি নাইন কলা চাষ করে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে রয়েছে ব্যাপক সুযোগ।

এই কলা চাষ সম্পর্কে দেলোয়ার হোসেন বলেন, সারাবছর জি নাইন জাতের কলা রোপন করা যায়। তবে ডিসেম্বর মাস এই জাতের কলা রোপণের আদর্শ সময়। তিনি বলেন, এক একর জমিতে ১২শ গাছ রোপন করা যায়।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ এস এম মূয়ীদুল হাসান বলেন, জি নাইন কলা খুবই সুস্বাদু দেখতেও দৃষ্টি নন্দন । ফলনেও অনেক বেশি সাফল্য মিলে এ কলা চাষে। কৃষকদের মাঝে ব্যাপক হারে এ কলা চাষের পদ্ধতি ও চারা ছড়িয়ে দিতে হবে। এ কলা বিদেশেও রপ্তানির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। দেলোয়ার সফল চাষি। সে কৃষি পুরস্কার পাওয়া একজন আদর্শ কৃষক। সে দেশে প্রথম টিউলিপ ফুল চাষে সাফল্য দেখিয়েছে। এবার জি নাইন কলা চাষে সফল দেলোয়ার হোসেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads