দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অনবদ্য ভূমিকা রাখছে বৃহত্তর শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। তিন দশকের বেশি সময়ের প্রচেষ্টায় নানা খাতে বিস্তৃত হয়েছে ব্যবসা। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই গ্রুপের ওপর নির্ভরশীল প্রায় এক কোটি মানুষ। সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে ৫০ হাজার মানুষের। অর্থনৈতিকভাবে দেশকে সমৃদ্ধ করতে যখন দুর্বারগতিতে এগিয়ে চলছে, ঠিক তখনই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপকে ধ্বংসের পাঁয়তারা শুরু হয়। এই শিল্প গ্রুপকে আক্রমণ দেশের অগ্রযাত্রায় টুঁটি চেপে ধরার শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গতকাল সোমবার বসুন্ধরা শিল্পপরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে প্রশ্নবিদ্ধ মামলার পেছনে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিয়েছে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে নেতৃত্বদাতা চিহ্নিত চক্রের সদস্যরা। এই চক্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার একাধিক মামলাও রয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনাকে পুঁজি করে ফের বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে চক্রান্তে মেতে উঠেছে চক্রটি। আর, এই চক্রটিকে উস্কে দিয়ে অর্থের জোগান দিচ্ছেন ভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীরা।
তথ্য মতে, এই চক্রটির ইন্ধনে বসুন্ধরা শিল্পপরিবারের চার সদস্যসহ আটজনকে আসামি করে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে কথিত ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন ওই তরুণীর বোন নুসরাত জাহান তানিয়া। মামলায় বসুন্ধরার চেয়ারম্যান, এমডিসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে ওই তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় কোনো সম্পর্ক নেই।
এর আগে একই ঘটনাকে পুঁজি করে ব্লাকমেইলিংয়ের উদ্দেশ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা করেছিলেন নুসরাত। পুলিশের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৮ আগস্ট আদালত ওই মামলা থেকে বসুন্ধরার এমডির নাম প্রত্যাহারের আদেশ দেন।
দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যাপক অবদান সর্বমহলে প্রশংসিত। ১৯৮৫ সাল থেকে বসুন্ধরা গ্রুপ শিল্পায়ন, আবাসনসহ নানা ধরনের ব্যবসায় জড়িত। বর্তমানে এই গ্রুপের ব্যবসা সম্প্রসারণ হয়েছে সিমেন্ট, বিটুমিনসহ বহু খাতে। দেশজুড়ে নানা খাতে ৪৫টির বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এই গ্রুপের। আবাসন খাতের প্রবৃদ্ধিতে শুধু বসুন্ধরা গ্রুপের অবদান প্রায় ২১ শতাংশ। এ ছাড়া অন্যান্য শিল্প গ্রুপের চেয়ে সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নেও সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে এই শিল্প গ্রুপ। প্রান্তিক পর্যায়ে ২০ হাজার ৭৮০ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিনাসুদে ঋণ প্রদান করেছে।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিল তিল করে বিস্তৃৃতি পাওয়া এই শিল্প গ্রুপের কর্ণধার আহমেদ আকবর সোবহান দেশের একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এই শিল্প গ্রুপকে আধুনিক, যুগোপযোগী এবং দেশকে আরো সমৃদ্ধশালী করে তোলার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সায়েম সোবহান আনভীর। তাদের মতো ব্যক্তিদের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টায় বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে নাশকতা ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। নুসরাতের মামলায় অন্যতম কুশীলব হিসেবে সক্রিয় এই ব্যক্তি।
আরো অভিযোগ রয়েছে, ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জ্বালাওপোড়া, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বেও ছিলেন সারোয়ার। এসংক্রান্ত মামলায় পাঁচ মাস কারাগারেও ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রবিরোধী গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে যাওয়া সংঘবদ্ধ চক্রের অন্যতম হোতা তিনি। অনলাইনে আইপি টিভি এবং ফেসবুকে নামে-বেনামে পেজ খুলে চালিয়ে যাচ্ছেন অপপ্রচার। মুনিয়া ইস্যুকে পুঁজি করে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করে আসছিল চক্রটি।
অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের অর্থের জোগানদাতা হুইপ সামশুল হক চৌধুরী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারি করোনা ভ্যাকসিন চুরি, ইয়াবা ব্যবসার গোমর ফাঁস, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, ব্যাংকার মোর্শেদ হত্যাসহ একাধিক অনিয়ম এবং দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছিল বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন গণমাধ্যম। এর জের ধরে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং এমডির বিরুদ্ধে এর আগেও মামলা করেছেন হুইপ সামশুল। মুনিয়া ইস্যুতে নুসরাতকে ‘দাবার গুটি’ বানিয়ে ফের অপতৎপরতা শুরু করেছেন।





