ঢাকার বনানীতে অগ্নিকান্ডে নিহত স্বামী মোস্তাফিজার রহমানের মৃত্যু শোকে মুহুর্মুহু মুর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী জিনিয়া সুলতানা সনি। নিহতের ৫ বছরের একমাত্র কন্যা ‘মুজবিহা জাইন নিধি’ গভীর ঘুমিয়ে থাকা তার বাবাকে ডেকেই চলেছে। কিন্তু কোন সাড়া নেই বাবার। এ ঘুম যে ভাঙ্গবে না, এ কথা কে বোঝাবে তাকে! অনেকদিন পর সে তার বাবার সাথে বাড়ীতে এসেছে। গ্রামে শত শত উৎসুক মানুষ দেখে বাবার কাছেই যেতে চাচ্ছে নিধি। কিন্তু কেউই তার কথা শুনছে না। মানুষের উপস্থিতি দেখে নিধি অনেকটাই ভয়ে জড়সড়ো হয়ে এর-ওর কোলে মুখ লুকিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। কিন্তু তার কান্নার সাথেই সার্বক্ষণিক বাবা, বাবাই ডাক বেরুচ্ছে।
গতকাল বৃহষ্পতিবার ঢাকার বনানীতে এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ২৫ জন নিহত হন। এরমধ্যে পীরগঞ্জের মোস্তাফিজার রহমানও নিহত হন। তাকে আহত অবস্থায় ঢাকায় সিএমএইচএ নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। আজ শুক্রবার চতরায় ‘আলতাবনগর কবরস্থান’র মাঠে তার নামাজে জানাযা শেষে সেখানেই তাকে কবরস্থ করা হয়।
জানাযায় পীরগঞ্জের ইউএনও টিএমএ মমিন, মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীমসহ এলাকার হাজারো মানুষ অংশ নেন। উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাঙ্গুরপাড়ার মৃত আব্দুর রশীদ মৃত. আব্দুর রশীদ মুন্সীর ৭ ছেলে ও ৫ মেয়ের মধ্যে মোস্তাফিজার ৮ম। সে তার স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় মতিঝিলের টিকেতলীতে বসবাস করছিল।
নিহতের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, এফ আর টাওয়ারের অষ্টম তলায় ‘এম্পায়ার এব্রোসিভ ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ’ এর ম্যানেজার পদে চাকরী করতো মোস্তাফিজার। বৃহষ্পতিবার দুপুরে ওই টাওয়ারে অগ্নিকান্ড থেকে মোস্তাফিজার বাঁচার আকুতি জানিয়ে ভগ্নিপতি প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ও দু’বোন ফাহিমা এবং রহিমাকে ফোন করেছিল। পরে সিএমএইচএ থেকে তার লাশ সনাক্ত করা হয়।





