সারা দেশ

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের নেপথ্যে যারা তাদেরকে চিহ্নিত করতে কমিশন গঠন হবে: আইনমন্ত্রী

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৫ অগাস্ট, ২০২১

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড: আনিসুল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পিছনে যারা ছিল তাদেরকে খুঁজে বের করতে, তাদেরকে চিহ্নিত করতে একটি কমিশন গঠন করা হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বলেছেন, যারা এই হত্যাকান্ডের নেপথ্যে ছিল, তাদেরকে চিহ্নিত করে বাংলার মানুষের কাছে স্বাক্ষ্য প্রমানসহ তাদের মুখোস উন্মোচন করার জন্য একটি কমিশন হওয়া প্রয়োজন। আরও আগেই হয়তো কমিশন গঠন হয়ে যেত। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এটা একটু বিলম্ব হচ্ছে। করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে আসলে কমিশন গঠন করব। এই কমিশনের মাধ্যমে আইনানুগ ভাবে যারা এই হত্যাকান্ডের কুশিলব ছিল, যারা নেপথ্যে থেকে লাভবান হওয়ার জন্য এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে জনগণের সামনে তাদের মুখোস উন্মোচন করে দেওয়া হবে।

আজ রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যাতে সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, কারা মিরজাফর, বেঈমান, নিমক হারাম সেটা জানতে পারে সেজন্য কমিশনের মাধ্যমে যারা পিছনে ছিল, যারা নেপথ্যে থেকে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তাদের পরিচয় জনগণের সামনে উন্মোচন করা হবে। শেখ হাসিনার সরকারের অঙ্গীকার বাংলাদেশে যতক্ষণ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে ধরার আনার প্রচেষ্টা চলবেই।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের হাল ধরার পর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ পুন‍ঃপ্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম প্রস্তুত করার পর ১৯৯৬ সালে প্রথম বার নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেন। বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের হত্যার বিচারের ব্যাপারে খুনি মুসতাক যে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স পাশ করেছিল সে অর্ডিন্যান্স বাতিল করে। খুনি মুসতাক, খুনি জিয়াউর রহমান এবং অন্যান্যরা এতই ভীত ছিল তারা নিজেরা যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে সে ব্যপারে জনগণকে প্রমান করার জন্য একটা আইন পাশ করে। সে আইনটা বলে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে সেটার বিচার হতে পারবে না। আমার তো মনে জঙ্গলের পশুরা এমন আইন করে না। এই আইনের মাধ্যমে প্রমান পায় খন্দকার মুসতাক, জিয়াউর রহমান এবং অন্যান্যরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার ষড়যন্ত্র এবং হত্যাকারী ছিল। ১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা সংসদে এই বাতিল করার পর জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের ১৭ জন সদস্যের হত্যার বিচারের পথ সুগম হয়।

তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত লজ্জাস্কর ব্যাপার বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে ফিরে এসে আইন বাতিল করে বিচার শুরু করতে হয়। আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর কাছে চীরকাল ঋণী আছি এবং থাকব, তারা কিন্তু সেদিন আমাদের দায়িত্ব পালন করি নাই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ভূইয়া, পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন সফিক আলেয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জামশেদ শাহ প্রমুখ। সভা শেষে মিলাদ ও দোয়া মহিফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম ভূইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার, ,আখাউড়া পৌর সভা মেয়র মো: তাকজিল খলিফা কাজল, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জামশেদ শাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মো: জয়নাল আবেদীন,যুগ্ম আহবায়ক মো. মনির হোসেন বাবুল, যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মমিন বাবুল, প্রমূখ। তাছাড়া পৌর আওয়ামী লীগ, পৌর যুবলীগ, উপজেলা ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ, শ্রমিকলীগ, সেচ্চাসেবক লীগ, আখাউড়া প্রেস ক্লাব, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংগঠন,সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পমাল্য অর্পন করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads