শামছুল হক (৭০)। পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে অভাব অনটনের তার সংসার। এরই মধ্যে ধার দেনা করে তৃতীয় মেয়ের বিয়ে দেন । করোনা পরিস্থিতিসহ নানা কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ হয়ে আছে বেশ কিছু দিন ধরে। এ অবস্থায় তার দোকান হয়ে যায় পণ্য শূণ্য। দু'বেলা দু'মুঠো ভাত জোগানো দায় হয়ে পড়ে। একটি ফেসবুক পোস্টে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করছেন বৃদ্ধ শামসুল হক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা শামছুল হক। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। পুঁজির অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া দোকানের জন্য পণ্যের ব্যবস্থা করায় এখন তিনি খুবই খুশি। এই ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে আবার তিনি পরিবারের অভাব অনটন ঘুছাতে পারবেন বলে এই আশায় নতুন করে এখন স্বপ্ন দেখছেন।
শরিবার হরিপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় নীল টি-শার্ট পড়া বেশ কয়েকজন যুবক তাঁর দোকানের জন্য নানা প্রকার পণ্য নিয়ে এসেছেন। সবাই তার দোকানে পণ্য তুলার কাজ করছেন। এসব দেশে শামসুল হকের মুখে হাসির ঝিলিক ফুঠে উঠেছে।
এদিকে তার অভাব অনটনের সংসার আর দোকানে পণ্য না থাকার বিষয়টি মনিয়ন্দ গ্রামের যুবক হৃদয় খন্দকারের নজরে আসে। এক পর্যায়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমাজকর্মী জেবিন ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করেন। জেবিন ইসলাম তার এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেন। ওই পোস্টটি মাস্তুল ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক সংগঠনের নজরে আসে। তাৎক্ষণিক ভাবে ওই সংগঠনের প্রজেক্ট সাবলম্বী নামে ফান্ড থেকে শামছুল হককে মানবিক সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংগঠনের পক্ষে দোকানের জন্য বিস্কুট, চিপস, দুধের ডিবি, চা পাতাসহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী দোকানে দেওয়া হয়। এসময় মাস্তুল ফাউন্ডেশনের টিম লিডার সাব্বির আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক নৌফেল রানা, মেহেদি হাসান, তানিম, রিমন, ইমাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মনিয়ন্দ এলাকার মো. হৃদয় খন্দকার নামে এক যুবক জানান, বৃদ্ধ শামছুল হক দীর্ঘ দিন ধরে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিষয়টি দেখে জেবিন ইসলামকে জানালে তিনি ডিএসই নামে একটি গ্রুপে পোস্ট দেন। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এখন শামছুল হকের দু:খ ঘুচবে।
মাস্তুল ফাউন্ডশনের টিম লিডার সাব্বির আহমেদ জানান, জেবিন ইসলামের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানতে পেরে শামছুল হকের সহযোগিতায় তারা এগিয়ে এসেছেন। এভাবে তাঁরা সমাজের অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চান।
শামছুল হক বলেন, 'করোনার কারণে ও মেয়ে বিয়ে দিতে গিয়ে আমার সব শেষ হয়ে যায়। এত দ্রুত দোকানের জন্য মালামাল পাবো তা ভাবতেও পারি নি'। দোকানের পণ্য সামগ্রী পেয়ে তিনি খুবই খুশি।





