অসহায় হতদরিদ্র মো. ইব্রাহীম (৪৮)। তিনি সেলাই মেশিনের মাধ্যমে তিরপাল তৈরিসহ পুরাতন জামা কাপড় সেলাই করে জীবিকা অর্জন করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন রোড এলাকার খোলা জায়গায় দীর্ঘ বছর ধরে এ কাজ করছেন।
তার ১ ছেলে ১ মেয়েসহ ৪ জনের সংসার। গত কয়েক দিন আগে রাতের আধারে কে বা কারা ইব্রাহীম মিয়ার সেলাই মেশিনটি ভেঙে ফেলেন। এতে করে অসহায় ইব্রাহীম মিয়া কাজ হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে এক প্রকার মানবেতন জীবন যাপন করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মানবিক সাহায্য আবেদন করে একটি পোস্ট করেন। তাৎক্ষনিক ভাবে ছাত্তার রাজু নামে এক প্রবাসী তাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসে তাকে নতুন একটি সেলাই মেশিন ক্রয় করে দেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে উপার্যন করার সেলাই মেশিন পেয়ে মহা খুশি তিরপাল তৈরীকারী হতদরিদ্র মো: ইব্রাহীম। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রেলওয়ে স্টেশন রোড এলাকার খোলা জায়গার মধ্যে সেলাই মেশিনের সাহায্যে ইব্রাহীম দীর্ঘ বছর ধরে তিরপাল তৈরী, পুরাতন জামা কাপড় ও চট সেলাই করে আসছেন। এতে করে দৈনিক তার ২শ থেকে আড়াশ টাকা তার উপর্যন হতো। গত কয়েক দিন আগে রাতের আধারে কে বা কারা তার সেলাই মেশিনটি ভেঙে ফেলে।
এ নিয়ে দ্বীন ইসলাম খান নামে একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মানবিক সাহায্য আবেদন করে একটি পোস্ট করেন।
সে সাহায্যের আবেদনটি নজরে আসে ইতালি প্রবাসী ছাত্তার রাজুর। পরে যোগাযোগ করে ইব্রাহীম মিয়ার জন্য একটি নতুন সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করে দেন । নতুন সেলাই মেশিন পেয়ে মহাখুখি ইব্রাহীম। এদিকে সোমবার বিকালে গিয়ে দেখা যায় মহাখুশিতে নতুন সেলাই মেশিন দিয়ে কাজ করছেন। চোখে মুখে নেই চিন্তার ভাজ। মনও বেশ উৎফুল্ল। ইব্রাহীম সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের জারুলতলা গ্রামের মো: ওসমান গনির ছেলে। বর্তমানে সে আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের হীরাপুর শশুরবাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকছেন।
ইব্রাহীম বলেন, আমি ভারী কোন কাজকর্ম করতে পারি না। তাই অনেক বছর ধরে খোলা জায়গার মধ্যে রেলওয়ে স্টেশন রোডে তিরপাল তৈরী, পুরাতন জামা কাপড় ও চট সেলাই কাজ করছেন। এটাই ছিল আমার উপার্যনের প্রধান হাতিয়ার। রাতের আধারে কে বা কারা আমার মেশিনটি ভেঙে দেই। টাকার অভাবে নতুন মেশিন ক্রয় করতে না পাড়ায় সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কি করব কি ভাবে চলবো এ নিয়ে চিন্তায় ভেঙ্গে পড়ি। কোন কিছুতেই শান্তি লাগছে না আমার। এই নতুন সেলাই মেশিন পাওয়ায় আমার চিন্তা দুর হয়েছে। এখন এইটা দিয়ে আগের মতো কাজ করে উপার্যন করতে পারবো।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সে দীর্ঘ বছর ধরে ফুটপাতের মধ্যে সেলাই কাজ করছে। এমন মানুষের মেশিন ভেঙ্গে দেওয়া খুবই অমানবিক কাজ। যারা এ কা করছে তারা কি মানুষ ।
প্রবাসী ছাত্তার রাজু বলেন এই মানুষটির সেলাই মেশিনটি ভাঙার খবর শুনে খুবই খারাপ লাগাই তাকে একটি মেশিন ক্রয় করে দেওয়া হয়। অসহায় একজন মানুষকে সাহায্য করতে পেরে খুবই ভালো লেগেছে বলে জানায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন নয়ন, হৃদয় খন্দকার, মূসা ভূইয়া, মোঃ দ্বীন ইসলাম খাঁন।





