দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাদের মধ্যে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক মানুষেরা। রোগীর ভিড়ের কারণে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা ফুলবাড়ীতে হিমেল হাওয়ায় আবারও বেড়ে গেছে শীতের তীব্রতা। সেইসঙ্গে সকালে কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে পুরো এলাকা। এ ছাড়া ঠান্ডা বাতাস শীতের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন রোগীরা। প্রতিদিন এ ধরনের এক থেকে দেড়’শ রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসব রোগীর মধ্যে প্রতিদিনই অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন ভর্তি হচ্ছেন অন্তঃবিভাগে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধুমাত্র ডায়েরিয়া আক্রান্ত ৯৪ জন রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ ৫১ জন এবং নারী ৪৩ জন রয়েছেন। বয়স ভেদে রোগী রয়েছেন শূন্য থেকে ১ বছরের মধ্যে শিশু ১৫ জন, ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে শিশু ৫৪ জন, ৫ থেকে ১৫ বছরের শিশু-কিশোর-কিশোরী ৪ জন এবং ১৫ বছরের উর্ধ্ব বয়সের ৩৬ জন রোগী রয়েছেন।
ঠান্ডায় আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা গৃহবধূ রোজিনা আক্তার বলেন, দু-তিন থেকে প্রচন্ড ঠান্ডা পড়েছে। ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে পাঁচ বছরের শিশু সন্তান ফাহিমের ডায়রিয়া হয়েছে। এতে করে বাচ্চার ডায়রিয়া হয়ে শরীর একেবারে দুর্বল হয়ে গেছে। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া ও খেলাধুলা করছে না। তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎককে দেখাতে নিয়ে এসেছে।
আরেক গৃহবধূ জোস্না রানী বলেন, হঠাৎ করে তার তিন বছরের বাচ্চার ঠান্ডা লাগায় জ্বর-সর্দি দেখা দিয়েছে। এ কারণে বাচ্চাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসেছেন।
হাসপাতালে ভর্তি দিনমজুর আব্দুল আলিম বলেন, শীতের মধ্যে কাজে বের হওয়ার কারণে ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া দিনের মধ্যে ছয়-সাতবার পাতলা পায়খানা হচ্ছে, আবার পেটব্যথা করছে। তাই বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছি। এখন একটু ভালো লাগছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. চামেলী বেগম বলেন, শীত জনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে এ সময় বেশি শীতে গরম কাপড় পরিধান করতে হবে। ভিটামিন সি ও শীতকালীন শাকসবজি খাওয়া ছাড়াও বয়স্ক ও শিশুদের ঠান্ডা পানি পান পরিহার করতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তিন-চার দিনে শীত বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মাঝে অনেকাংশে কমে গিয়েছিল। শীতের কারণে বয়স্ক ও শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। তারা শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। রোগী বাড়ার কারণে চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।





