প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে চলছে ইলিশ শিকার

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে এভাবেই চলছে ইলিশ শিকার

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে চলছে ইলিশ শিকার

  • দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৫ অক্টোবর, ২০১৯

প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পটুয়াখালীর নদীবেষ্টিত দুমকি উপজেলার পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে জেলেরা প্রকাশ্যে দিনের বেলা অবাধে মা ইলিশ শিকার করছেন। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযান এড়িয়ে এলাকার অসাধু জেলেরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে নদীতে জাল ফেলে শিকার করছে মা-ইলিশ।

মৎস্য বিভাগের নিয়মিত অভিযানের ১৭ দিনে ১৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, ৫ জেলের প্রত্যেককে ৫হাজার টাকা করে জরিমানা ও ৯ জেলেকে ১ বছর এবং ১ জেলেকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৯অক্টোবর রাত ১২টা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত একটানা ১৭ দিনের অভিযানে ইউএনও শঙ্কর কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে মৎস্য কর্মকর্তা , উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা, পুলিশসহ প্রশাসনের একাধিক টিম পায়রা ও লোহালিয়া নদীর চরগরবদী, কদমতলা, পাতাবুনিয়া, ঝিলনা, আলগী, ধোপারহাট, হাজিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ১৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, ৫ জেলের প্রত্যেককে ৫হাজার টাকা করে জরিমানা ও ৯ জেলেকে ১ বছর এবং ১ জেলেকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঙ্গাশিয়ার আলগী, কানকী, লেবুখালী, বাহেরচর, পাংসিঘাট, পাতাবুনিয়া এলাকার পায়রা নদী ও চরগরবদী, বগা, মজুমদারহাট এলাকার লোহালিয়া নদীতে রাতদিন প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নানা কৌশলে কারেন্ট জাল ফেলে জেলেরা ডিমওয়ালা ইলিশ শিকার করছে। আহরিত ইলিশ রাতারাতিই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। দিনে-রাতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও পুলিশি অভিযান থাকায় জেলেরা গভীর রাতে চুরি করে নদীতে জাল পেতে ইলিশ শিকার করছে। বর্তমানে পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে মা ইলিশ। এসব অভিযানে ইউএনও, মৎস্য কর্মকর্তা, ওসি থাকলেও রহস্যজনক কারনে অভিযান তেমন সফল হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মৎস্য বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের গোপন যোগাযোগে জেলেরা আগে ভাগেই টের পেয়ে আত্মগোপন করায় অভিযান তেমন একটা সফল হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জলিশা জেলে পাড়ার জনৈক বাসিন্দা জানান, অভিযান টিমের গতিবিধি লক্ষ্য রেখেই জলিশা জেলে পাড়ার জেলেরা রাতের অন্ধকারে কলার ভেলায় নদীতে জাল ফেলে ইলিশ শিকার করছে। তিনি আরও জানান, অভিযান টিম কোথায় বা কোন দিকে যাচ্ছে মোবাইল ফোনের সেই তথ্য মাথায় রেখেই তারা অত্যন্ত সতর্কতার নদীতে নামে। এছাড়া নদীর তীরেও জেলেদের নিজস্ব লোকজন পাহাড়ায় থাকে। দূর থেকে স্পীড রোট বা ট্রলারের শব্দ পেলেই জেলেদের সতর্ক সংকেত জানিয়ে দেয়। অভিযানের টিম ওই যায়গায় পৌছানোর পূর্বেই জাল নদীতে বা তীরে ঝোপঝারে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। পায়রা নদীর তীরবর্তি আলগি গ্রামের বাসিন্দা মো: জাহাঙ্গীর মৃধা জানান, এবার মৎস্য বিভাগের অভিযানে দ্রুতযান (স্পীড বোট) ব্যবহার করায় জেলেরাও নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বাদ দিয়ে কলার ভেলায় জাল ফেলছে। তিনি আরও জানান, অধিকাংশ জেলেরা নদীতে ডুবন্ত জাল দিয়ে নদীর বিপরীত তীরে ঝোপঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। অভিযানের টিম চলে যাওয়ার পর তারা সেই জাল তুলে নেয়। এভাবে রাতভর চলে ওইসব জেলেদের মা-ইলিশ শিকার।

এসব ডিমওয়ালা ইলিশ গভীর রাতে এবং সকালে স্থানীয় বাজারে এবং বিত্তবানদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করছে জেলে ও নির্দিষ্ট পাইকাররা। এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দিন বলেন, বর্তমান প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা ইলিশ রক্ষায় পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে অভিযান অব্যাহত আছে। জনসচেতনতা বাড়াতে পোষ্টার, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হয়েছে। জেলে পাড়াগুলো কড়া নজরদাড়িতে রাখা হয়েছে। এর পরেও রাতের আধাঁরে চুরি করে কেউ মাছ ধরলে আমাদের কি করার আছে। তবে জাল পেলে পুড়ে ফেলছি। ১৫ জন জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads