পাঁচ শহীদের স্মৃতি রক্ষায় নেওয়া হয়নি উদ্যোগ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

পাঁচ শহীদের স্মৃতি রক্ষায় নেওয়া হয়নি উদ্যোগ

  • জাহাঙ্গীর আলম, মনিরামপুর (যশোর)
  • প্রকাশিত ২৩ অক্টোবর, ২০২০

আজ ২৩ অক্টোবর এ দিনে মণিরামপুরে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে এ দেশের পাঁচ সূর্য সন্তান আসাদ, তোজো, শান্তি, মানিক ও ফজলু শহীদ হন। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বাধীনতা-পরবর্তী কোনো সরকার এ শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।  

জানা যায়, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধচলাকালীন ২৩ অক্টোবর সকালে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রত্নেস্বরপুর গ্রামের আবদুর রহমানের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল স্বাধীনতাকামী এ পাঁচ যুবক। কিন্তু পাক হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকারদের চোখ এড়াতে পারেনি তারা। স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার আবদুল মালেক ডাক্তারের নেতৃত্বে মেহের জল্লাদ, ইসাহাক, আবদুল মজিদসহ বেশ কয়েকজন রাজাকার তাদের আশ্রয়স্থল চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আটক করে। এরপর চোখ বেঁধে উপজেলার চিনাটোলা বাজারের পূর্বপাশে হরিহর নদীর ব্রিজে নেয়। সেখানে নিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত করে শরীরে লবণ দেওয়াসহ তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় তারা। পরে সেখানে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।

ওই নির্যাতনের প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে এখনো সাক্ষী হিসেবে বেঁচে আছেন চিনাটোলা বাজারে লেবার সরদার শ্যামাপদ নাথ (৬৪)। তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, আমি সে সময় ২৫ থেকে ২৬ বছরের টগবগে যুবক। তখন আমি চিনাটোলা বাজারে মুটেগিরির কাজ করতাম। ওইদিন রাজাকারদের নির্দেশে ছিল হরিহর নদীর ওপর ব্রিজ আমাকে পাহারা দিতে হবে। পাহারারত অবস্থায় দেখলাম চোখবাঁধা অবস্থায় মুক্তিসেনা আসাদুজ্জামান আসাদ, তোজো, শান্তি, মানিক ও ফজলুর রহমান ফজলুকে ব্রিজের পাশে আনা হলো। তার কিছুক্ষণ পর রাজাকার কমান্ডারের বাঁশি বেজে ওঠার সাথে সাথে গর্জে ওঠে রাইফেল। মুহূর্তের মধ্যে পাঁচ তরতাজা যুবকের নিথরদেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে শহীদদের সেই বধ্যভূমি। শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির নেতা মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার সামছুল আলম বলেন, স্বাধীনতার পর শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য বামদলের পক্ষ থেকে বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ব নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে প্রতি বছর ২৩ অক্টোবর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের জীবনী নিয়ে আলোচনা সভা করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে আজ পর্যন্ত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা কমরেড আবদুল হামিদ জানান, উল্লেখিত পাঁচ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের কবরসহ উপজেলার সব শহীদের স্মৃতি ও বধ্যভূমি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সেখানে একটি পার্ক করার চিন্তা রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads