পল্লীবন্ধু আক্তার মুনশি

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

পল্লীবন্ধু আক্তার মুনশি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১ ডিসেম্বর, ২০২০

আক্তার হোসেন মুনশি। গ্রামের সবাই তাকে ‘আক্তার মুনশি’ বলেই ডাকে। বসবাস সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাকান্দি গ্রামে। জীবনের ৬৮টি বসন্ত পার করেছেন এ গ্রামকে ভালোবেসে।

আক্তার মুনশি জানালেন, কৃষিতে অবদান রাখায় দুই-দুইবার রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৯২ ও ১৯৯৩ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত আবদুর রহমান বিশ্বাসের কাছ থেকে ‘কৃষি উন্নয়নে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার’ লাভ করেন। একবার ১৩ কেজি ফুলকপি উৎপাদনের জন্য, আরেকবার দেড় কেজি পেয়ারা উৎপাদন করে। পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত সনদ ও নগদ টাকা। কৃষিতে উৎপাদন ছাড়াও গ্রামের উন্নয়নে তার অবদান কম নয়। তিনি জানান, তার গ্রাম নিচু এলাকায় হওয়ায়, বর্ষাকালে চলাচলের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। গ্রামের রাস্তা একবার পানির তোড়ে কিছু অংশ ভেঙে যায়। তখন গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। তখন নিজ উদ্যোগে ও খরচে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেন। এছাড়া গ্রামের মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে নিজ উদ্যোগে ২০০ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান কর্মসূচি চালু করেন। তিনি একজন হোমিও চিকিৎসকও। তিনি আরো জানান, গ্রামের অসহায়-দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় তিনি হোমিও চিকিৎসা দেন।

তিনি একবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। আক্তার মুনশি জানান, ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মানোয়ন ফরমও কিনেছিলেন। যদিও নির্বাচনে আর অংশ নেননি। ২০১৪ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৫ কিলোমিটার (জামতৈল-সলপ রেলস্টেশন) রেলপথ পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। তার অধীনে আরো ৮-১০ জন ছিলেন। এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা পান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ থেকে শুরু করে তাদের খাওয়া-দাওয়া, জিনিসপত্র আনা-নেওয়া করেছেন। আক্তার মুনশি জানালেন, তার গ্রামেই মুক্তিযোদ্ধারা ঘাঁটি গেড়েছিলেন। গ্রামের পাশেই ছিল রেললাইন। ওই সময় মুক্তিযোদ্ধারা একটি রেলব্রিজ উড়িয়ে দেন। যাতে পাকবাহিনী রেলপথে এসে গ্রামে আক্রমণ করতে না পারে। তিনি ৫০-৬০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সহযোগিতা করেন।

এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রামের উন্নয়েনে তার অবদান অনেক। কেউ তার কাছে কিছু চেয়ে খালি হাতে ফেরেনি। তিনি একজন হোমিও চিকিৎসক। তিনি বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েও থাকেন।

সবশেষে আক্তার মুনশি জানালেন, তিনি উপজেলা কৃষকলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আদর্শ মানেন। তিনি জানান, তার ইচ্ছা বিদেশে গিয়ে কৃষির ওপর প্রশিক্ষণ নিতে চান। আল্লাহ তাকে অনেক দিয়েছেন। এতেই তিনি সন্তুষ্ট। তার দুই ছেলে। বড় ছেলে পড়াশোনা শেষ করে গ্রামীণ ব্যাংকে আছেন। ছোট ছেলে বিদেশে আছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads