নেই টার্মিনাল তবুও চাঁদা তুলছে প্রভাবশালীরা

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

নেই টার্মিনাল তবুও চাঁদা তুলছে প্রভাবশালীরা

  • নুরুজ্জামান, মানিকগঞ্জ
  • প্রকাশিত ২ নভেম্বর, ২০২১

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় চলছে টার্মিনালের নামে প্রভাবশালীদের চাদাবাজি। সরকারি নির্দিষ্ট কোন টার্মিনাল না থাকলেও টার্মিনালের নামে পরিবহন থেকে প্রতিমাসে লাখ টাকার চাদাঁ তুলছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

জানা গেছে, সাটুরিয়ায় সরকারি নির্দিষ্ট কোনো টার্মিনাল নেই। বছরের পর বছর টার্মিনাল না থাকলেও টার্মিনাল পার্কিংয়ের নামে তোলা হচ্ছে চাঁদা। দীর্ঘদিন সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের জায়গা টার্মিনাল বানিয়ে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পরিবহন থেকে টার্মিনাল পার্কিং ও বিভিন্ন নামে বেনামে চাঁদা আদায় করতো। পরে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারি স্কুলের জায়গা থেকে টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এরপরও স্কুলের আংশিক জায়গা দখল করে স্বপ্ন পরিবহনের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এবং সাটুরিয়া খাদ্য গুদামের সামনের জায়গা দখল করে এসবি লিংক পরিবহনের টার্মিনালের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সাটুরিয়া এবং নাগরপুর মামুদনগর থেকে গাবতলী রুটে ৭৮ টি এস বি লিংক পরিবহন চলাচল করে। এরমধ্যে ২৬টি এস বি লিংক সাটুরিয়া থেকে চলাচল করে। এসব পরিবহন থেকে টার্মিনাল পার্কিং, মালিক সমিতি সুপারভাইজার, লাইনম্যান বাবদ প্রতিটি গাড়ি থেকে ১২০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। অপরদিকে সাটুরিয়া সরকারি আর্দশ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের জায়গায় এখনো টার্মিনাল বানিয়ে সাটুরিয়া থেকে মানিকগঞ্জ রুটে স্বপ্ন পরিবহন থেকে চাঁদা তুলছে স্থানীয় নাছির নামের এক ব্যক্তি। সরকারি কোন টার্মিনাল না থাকলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি জায়গা দখল কওে টার্মিনালের নামে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে সরকার একদিকে মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে অপর দিকে বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

এস বি লিংক পরিবহনের মালিক ইদ্রিস বলেন, আগে সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে স্কুলের জায়গায় টার্মিনাল ছিল। ইউএনও মহোদয় নিষেধ করার পর আমরা শুধু নাগরপুর টু গাবতলী গাড়ি চালাইতাম। পরে সাটুরিয়ার নেতারা আমাদের খাদ্য গুদামের সামনে টার্মিনাল করে দিয়েছে। এখন কে জায়গার ভাড়া নিবে আমরা জানি না। আমরা শুধু গাড়ি চালাই।

সাটুরিয়া টু মানিকগঞ্জ স্বপ্ন পরিবহন টার্মিনালের দায়িত্বে থাকা নাছির বলেন, আমি সাটুরিয়া বাসীর যাতায়াতের জন্য সাটুরিয়া আর্দশ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে ২৯ হাজার টাকা দিয়ে তিন মাসের জন্য ইজারা নিয়েছি। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইজারা নিয়েছি কিন্তু প্রধান শিক্ষক আমাকে কোন টাকার রশিদ দেয়নি। আমি কোন চাঁদা তুলি না। আমি এখানে সারাদিন প্ররিশ্রম করি আমার তো পেট আছে। আবার অনেক সময় পুলিশ আসলে আপ্যায়ন করতে হয়। এখন আপনারা আসছেন আপনাদের আপ্যায়ন করতে হবে । সব খরচ এখান থেকেই করতে হয়।

সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, আমি কারও কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা নেইনি এমন কোন প্রমাণও নেই। টার্মিনালের জন্য আগে ইজারা দেয়া ছিল। আগের ইউএনও স্যার টার্মিনাল ইজারা দিতে নিষেধ করায় টার্মিনাল সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্ত নাছির কিভাবে স্কুলের জায়গায় স্বপ্ন পরিবহনের টার্মিনাল পরিচালনা করে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনালের জন্য উপযোগী জায়গা না হলেও সাটুরিয়া সরকারি খাদ্য গুদামের সামনের জায়গা দখল করে এস বি লিংক পরিবহনের জন্য টার্মিনাল করা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমান গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকলেও রাস্তার উপর গাড়ি রেখে যাত্রী উঠানো হচ্ছে। এতে ওই রাস্তা দিয়ে ছোট পরিবহন ও জনগণের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে।

স্থানীয়রা জানান, আমাদের সাটুরিয়া বাসীর যোগাযোগের জন্য একটা বাসষ্ঠান্ড প্রয়োজন। এখন যেভাবে বাসষ্ঠান্ডের নাম করে চাঁদা তোলা হচ্ছে এতে শুধু প্রভাবশালী নেতাদের পকেট ভারী হচ্ছে। এতোদিন স্কুলের জায়গায় টার্মিনাল বানিয়ে হরিলুট করছে। এখন সেই জায়গায় টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় অনেকের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। তাই আবার সরকারি খাদ্য গুদামের সামনের জায়গা ও রাস্তা দখল করে টার্মিনাল বানিয়েছে। এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের তেমন জায়গা না থাকায় প্রতিনিয়তই রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার এলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে জনগণের যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, আপনার কাছ থেকেই শুনলাম, খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যরস্থা নেয়া হবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads