সারা দেশ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড থেকেও পায়নি টিসিবির পণ্য

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ৩০ মার্চ, ২০২৩

আবু হাসান শেখ, কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধি:
সরকার হামাক ন্যায্য দামে পণ্য দেয়ার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিছে। হামরা ন্যায্য দামে পণ্য কেনমো, খামো, কাজ করমো আর আরাম আয়াশে থাকমো। কিন্তু হামার কার্ড থাকিয়াও সেই পণ্য দ্যায় না ডিলার। সরকার হামার ভাল চায়, কিন্তু ওমরা (ডিলার) এইললা দেয়, ওমরা মারি খায়। এভাবেই নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডী ইউনিয়নের কার্ড থেকেও ফ্যামিলি কার্ডের পণ্য না পাওয়া একাধিক কার্ডধারীরা। কার্ড দিছে সরকার, কার্ড দ্যাখেয়া পণ্য নেয়ার জন্য, হামরা কার্ড দ্যাখানো না, তাহলে হামার কার্ডের মাল গেল কোনঠে? এভাবেও প্রশ্ন করে অভিমত ব্যক্ত করেন ওই সব পণ্য বঞ্চিতরা। অন্যদিকে প্রায় শতাধিক কার্ডধারী মালামাল পায়নি বলে খোদ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানও স্বীকার করেন। কার্ড থেকেও কার্ডধারীদের পণ্য না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে টিসিবি’র ডিলার নুরুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কতৃর্পক্ষ ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য সয়াবিন তেল, চিনি, ছোলা ও মশুর ডালের একটি প্যাকেজ সরকার নির্ধারিত মূল্য ৪৭০ টাকা দেয়া শুরু করে। মার্চ মাসের ২০ ও ২১ তারিখ টিসিবির পণ্য বিতরণ করা হয়। এ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডধারী হল ১৬০৪ জন। কার্ড দেখে পণ্য দেয়ার নিয়ম থাকলেও সেটি করছে না ওই ডিলার। কার্ড থেকেও মালামাল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছে হতদরিদ্র মানুষ। প্রতিবার মালামাল বিতরণে কার্ডধারীদের এবার মালামাল শেষ, আগামী কোটায় পাবেন এভাবে হয়রানি করা হয় বলে ক’জন জনপ্রতিনিধি জানান। ওই টিসিবি ডিলারের বিরুদ্ধে কার্ডধারীদের হয়রানি করার একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়াও ওই ডিলার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরেরও (বর্তমান ১৫ টাকা) একজন ডিলার। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীদের নতুন কার্ডের জন্যও সম্প্রতি উপকারভোগীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে উৎকোচ নিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। পরে উপকারভোগীরা যেন কোন ডিলারকে টাকা না দেয় এরকম পরামর্শ দিয়ে উপজেলা খাদ্য অফিস থেকে মাইকিংও করা হয়।
মঙ্গলবার বিকালে রণচন্ডী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ভাজাপাড়া ও ৯নং ওয়ার্ডের জালিয়াপাড়া গ্রামে বঞ্চিত কয়েকজন উপকারভোগীদের সাথে কথা হয়। তারা জানান— আমরা কার্ড নিয়ে গেছিলাম, আমাদের বলেছে মাল শেষ হয়েছে। আগামী কোটায় দেয়া হবে। আবার অনেকের স্বাক্ষর নিয়েছে, পণ্য দেয়নি। টিসিবি’র মালামাল বিতরণে প্রতিবারই কেউ না কেউ মালামাল পায় না। তার কাজেই মালামাল শেষ হয়েছে বলা। এভাবেও অনেক উপকারভোগী মত প্রকাশ করেছেন।
ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের দু’টি গ্রাম থেকে পণ্য বঞ্চিত উপকারভোগী কৃষ্ণ চন্দ্র (কার্ড নং—৮৮০), রুপকান্ত দাস (কার্ড নং—১৫০৫), রমনী (কার্ড নং ৮১), আসাদুল (কার্ড নং—৮৬), আজহারুল (কার্ড নং—৫২৮), আতিয়ার (কার্ড নং—৫২৭), নুরনাহার (কার্ড নং—১০২৯), আঃ হাকিমসহ অনেকে অভিযোগ করেন আমাদের ইউনিয়ন পরিষদে মালামাল বিতরণ করলে আমরা সঠিকভাবে পণ্য পাই। কিন্তু এ ডিলার তার গুদামে দিলে পণ্য শেষ বলেই শেষ করে দেয়। আমরা কার্ড নিয়ে গেছিলাম। আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে বলেছে মালামাল শেষ হয়েছে, আগামী কোটায় মালামাল দেয়া হবে। উপকারভোগীরা এ প্রতিবেদককে বলেন— কার্ড দেখে মালামাল দেয়ার নিয়ম। তাহলে কার্ড থেকেও কেন মালামাল পাব না? অন্যদিকে পণ্য বিতরণে অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলা এড়াতে ফ্যামিলি কার্ড দেখে পণ্য দিতে ডিলারগণকে বলাও আছে। তাহলে কেন তিনি কার্ডধারীদের মালামাল দিল না, কেনই বা কার্ডধারীরা মালামাল পেল না এমন প্রশ্ন অনেক কার্ডধারীদের। অনেকেই বলছেন— নিজ গুদামে টিসিবি পণ্য বিতরণ করেতো তাই কোন নিয়ম না মেনে শতাধিক ব্যক্তিকে মালামাল দেয়নি। কার্ড থেকেও যারা মালামাল পেল না তাদের কে বলা হয়েছে আগামী কোটায় পণ্য দেয়া হবে। তাহলে এ শতাধিক না পাওয়া কার্ডধারীদের পণ্য গেল কোথায়? এরকম প্রশ্ন তুলেছে বঞ্চিত উপকারভোগীদের মাঝে অনেকে। তাহলে কি বিক্রি করে দিয়েছেন এ সব কার্ডের পণ্য?
এ বিষয়ে দায়িত্বরত তদারকি কর্মকর্তা পাট অফিসার সফিকুল ইসলাম অনেক কার্ডধারী পণ্য পায়নি এটি স্বীকার করে বলেন— সব সময় আমি থাকতে পারি না। আমাকেতো অফিসও করতে হয়। এ সুযোগ অনেক কার্ডধারীকে মালামাল দেয়া হয়নি বলে শুনেছি। এজন্য আমি প্রত্যয়নপত্রেও স্বাক্ষর করি নাই।
ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বিমান জানান— আমার কাছে অনেক কার্ডধারী এসেছিল তারা মালামাল পায়নি বলে অভিযোগ করেছে। এছাড়াও শুনেছি কয়েক শতাধিক উপকারভোগী টিসিবি’র ন্যায্য মূল্যের পণ্য পায়নি। রমজান মাস উপলক্ষে সরকার হতদরিদ্রদের জন্য চিনি, মসুর ডাল, সোলা ও সোয়াবিন তেল দিয়েছে। কার্ডধারীরা এসব পণ্য না পাওয়া এটা দুঃখজনক।
ডিলার নুরুজ্জামান চৌধুরী বলেন— শতাধিক কার্ডধারী পণ্য পায়নি এটি সত্য নয়। ১০ থেকে ১২ জন কার্ডধারী পণ্য নাও পেতে পারে। তিনি হয়রানির বিষয়টিও অস্বীকার করেন ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর—ই—আলম সিদ্দিকীর সাথে কথা হলে তিনি জানান— কার্ড দেখেই কার্ডধারীদের পণ্য দেয়ার নিয়ম। সরকার হতদরিদ্রদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছে। যাতে ন্যায মূল্যে তেল, ডাল, চিনি, ছোলা কিনতে পারে। ওই ডিলার যদি কার্ডধারীদের পণ্য না দিয়ে থাকে তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads