জাতীয়

পানি উন্নয়ন বোর্ড

নিয়ম ভেঙে ঠিকাদারদের ২২২ কোটি টাকা পরিশোধ

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২৯ নভেম্বর, ২০১৯

দরপত্র বাতিল হয়েছে সরকারের সিদ্ধান্তে। কাজও হয়নি। কিন্তু ঠিকাদারকে দরপত্রের পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এভাবে জালিয়াতি করে দুই কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছে একটি অসাধুচক্র। বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের করের টাকার এই তছরুপের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সংঘবদ্ধচক্র। অর্থ লুটপাটের এ ঘটনা ঘটেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশে এভাবে প্রায় ২২২ কোটি টাকা এভাবে হাতিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধচক্র। জানতে চাইলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার বাংলাদেশের খবরকে গতকাল টেলিফোনে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ২২২ কোটি টাকার ১৭টি প্রকল্পে অর্থ ব্যয় নিয়ে নিরীক্ষায় প্রশ্ন উঠেছে। এগুলো আলোচনা হচ্ছে। যেসব প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি থেকে মন্ত্রণালয়কে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে, তা পরিপালন করা হবে। যেসব প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে সেগুলো কীভাবে আদায় করা যায় তার নির্দেশ দেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে। 

জানা গেছে, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল থেকে সংসদীয় কমিটির কাছে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য জানানো হয়েছে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিতে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০১২-১৩ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারের কোষাগার থেকে তুলে নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, একটি প্রকল্পে ডিজাইন অনুসরণ না করে ঠিকাদার প্রকল্পটি শেষ করে। সম্পাদিত কাজের বিপরীতে মোট ১২ কোটি ৫১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ১৭৫ টাকা ব্যয় হয়। তবে তার সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। যৌথ পরিদর্শন, ছাড়পত্র গ্রহণ এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত কমিটির সামনে ডাম্পিং কাজ সম্পাদন ছাড়াই ঠিকাদারকে অনিয়মিতভাবে ২৩ কোটি ৮২ লাখ ৬২ হাজার ৮৪৫ টাকা পরিশোধ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এখানে যথাযথ যাচাই ও পরীক্ষা ব্যতীত অনিয়মিতভাবে দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে বলে নিরীক্ষায় বলা হয়েছে। ১৬৬ কোটি ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৩ টাকা পরিশোধ করা হয় যাচাই-বাছাই না করে। বাতিলযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যোগসাজশের মাধ্যমে অনিয়মিতভাবে ২ কোটি ৬ লাখ ৮৬ হাজার ২৪৩ টাকার দরপত্র গ্রহণ করা হয় ও অর্থ পরিশোধ করা হয়। জরুরি পরিস্থিতি ব্যতীত এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমোদন না নিয়েও অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

এভাবে অনিয়মিত ব্যয় ১ কোটি ১৮ লাখ ৩৪ হাজার ১৩৯ টাকা। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভ্যাট বাবদ কম কর্তন ও কর্তন না করায় ১ কোটি ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩০ টাকা ক্ষতি হয়। কর্তন করা ভ্যাট যথাসময়ে সরকারি কোষাগারে জমা না করায় সুদবাবদ আদায়যোগ্য ৬ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ টাকা এবং ভ্যাট বাবদ ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৫ টাকাসহ মোট ৪ কোটি ৮১ হাজার ৯৯৪ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। পিপিআর-২০০৮ এর প্রবিধান লঙ্ঘনপূর্বক সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে অনিয়মিতভাবে ৯৬ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। পারফরম্যান্স সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা না করা ও ঠিকাদার অসমাপ্ত কাজ ফেলে গেলেও পারফরম্যান্স সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত না করায় আর্থিক ক্ষতি ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার ১১৩ টাকা। প্রাক্কলন ও কার্য সমাপ্তির সনদ ব্যতীত ড্রেজার মেরামত করায় অনিয়মিত ব্যয় ১ কোটি ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫১ টাকা এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুদে-আসলে বকেয়া আদায়ের ব্যবস্থা না নেওয়ায় ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ৭২৯ টাকা ক্ষতি হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads