সারা দেশ

নির্মাণের ৫ মাসেই সড়কে ধস!

  • মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নির্মাণের ৫ মাসেই টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের হিলড়া পূর্বপাড়া থেকে হাট ফতেপুর বাজার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছে। এতে যানচলাচলের পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে রাস্তাটি ব্যবহার করছেন এলাকাবাসী। দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটির ৫ মাস যেতে না যেতেই বিভিন্ন অংশে ভাঙা ও দেবে যাওয়ার কারণে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সড়কটির কাজ পায় টাঙ্গাইলের তাপস ট্রেডার্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে কাজটি বাস্তবায়ন করলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসী। অনিয়মের কাজে বাঁধা দিলেও তারা কারো কথা শোনেননি। তাদের অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণের সময় নিয়ম মাফিক মাটি ও বিটুমিন ব্যবহার না করার ফলে নির্মাণের ৫ মাসের মধ্যেই কয়েকটি অংশ ভেঙে ও দেবে গেছে। এ কারণে সড়কটি দিয়ে যাতায়াতকারী জনগণ ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে।

মহেড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা তামিম আল তালহা বলেন, সড়কটিতে অনিয়মের কথা বলতে গেলে তারা আমাদের কোনো কথাই শুনেননি। নিম্নমাণের সামগ্রীসহ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ায় আমরা চরম দুর্ভোগে আছি। দ্রুত সড়কটি যেনো সংস্কার করা হয় সংশ্লিষ্টদের কাছে এই দাবি জানাই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক লায়ন এস.এম মো. শরিফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘বাংলাদেশের খবরের’ এই প্রতিবেদককে বলেন, বন্যার পানির কারণে কয়েকটি স্থান থেকে মাটি সরে ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু পানি বেশি থাকার জন্য এখন ঠিক করা সম্ভব না। তবে পানি কমলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি ঠিক করে দেয়া হবে। নিম্নমাণের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া বলেন, সড়কটি যখন নির্মাণ করা হয় তখন বিভিন্ন সময় আমি পরিদর্শন করেছি কিন্তু নিয়মের বাইরে গিয়ে সড়কটি দেড় ফিট নিচু করাসহ নানা অনিয়মের কথা বলা হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু তারা কোনো কথাই শোনেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জোয়ার ও বৃষ্টির পানির কারণে ওই রাস্তার বেশ কয়েকটি স্থানে ভেঙে ও দেবে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করার জন্য চিঠি দেয়ার কাজ প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads