কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউপির আবারপাড়া থেকে নারুয়া, মাঝিপাড়া গ্রামের মানুষ চলাচলের শত বছরের পুরনো সরকারি কাঁচা রাস্তা কাটার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী ফারুক ও তার ভাই আলমগীরের বিরুদ্ধে। নারুয়া হাজী বাড়ির সামনে প্রায় ২ শত ফুট রাস্তা কেটে ফেলা হয়। প্রভাবশালীরা হলেন নারুয়া গ্রামের মৃত. শাহ আলী ভেন্ডারের ছেলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবারপাড়া থেকে নারুয়া, মাঝিপাড়া ও বিশারা গ্রামে যাতায়াতের এক মাত্র শত বছরের পুরনো সরকারি কাঁচা রাস্তা পাশে প্রভাবশালী ফারুক ও তার ভাই আলমগীর জমিন রয়েছে। রাস্তাটির পাশে জমিন হওয়াই পূর্ব পশ্চিম প্রায় ২ শত ফুট রাস্তা কেটে ফেলে তারা। রাস্তার পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। এই খুঁটিটিও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। এতে বর্ষার মৌসুমে রাস্তাটি ভেঙ্গে মানুষ চলাচলের অনুপযোগী হবে। অথচ এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবি থেকে শুরু করে নানা পেশার মানুষ এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলে কথা বলছেনা। যদি কেউ রাস্তা কাটার বিষয়ে কথা বলে তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দুমকিও দিচ্ছেন তারা।
এ বিষয় রাস্তার পাশে বসবাসকারী ৮০ বছরের বৃদ্ধ আবুল হাশেম বলেন, এ রাস্তাটি শত বছরের পুরনো। এখান দিয়ে প্রতি দিন ৪-৫ গ্রামের শত শত মানুষ চলাচল করে দেশের বিভিন্ন জায়গা যায়। গত ২০-২৫ দিনে পূর্বে প্রভাবশালী ফারুক ও তার ভাই আলমগীর রাস্তার পাশে তাদের জমিন থাকায় ভ্যাকু মেশিন দিয়ে রাস্তা কেটে ফেলে। তিনি রাস্তা কাটার বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকেও তার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দুমকি দেয়। এমন ভাবে রাস্তা কাটা হয়েছে বর্ষা আসলে ভেঙ্গে যাবে।
একই গ্রামের জুন্তুর আলীর ছেলে আব্দুল কাদের বলেন, গত ১০ বছর পূর্বে তিনি এই জায়গা আলমগীর ও ফারুক হোসেন গংদের কাছে বিক্রি করেন। তারা কখনো রাস্তা পাশে জমিন কাটেননি। উল্টো রাস্তা বেঁধে দিয়েছেন। বর্তমানে তারা প্রভাবশালী হওয়া ভয়ে কেউ কথা বলে না। অথচ প্রভাবশালীর দাপট দেখিয়ে সরকারী রেকর্ড ভুক্ত কাচাঁ রাস্তাটি পাশ কেটে ফেলে দেয় । যার ফলে এই এলাকার শত শত বর্ষাকালে চরম বেকায়দা পড়তে হবে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন কে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার ভাই আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের কে বলেন, আমি ভ‚মি মন্ত্রনালয়ের সচিব আবু তালেবের মেয়ের জামাই। আমাদের বিরুদ্ধে কে অভিযোগ দিয়েছে বলেন। আমরা ১৫ বছর প‚র্বে এই জায়গাটি ক্রয় করি। রাস্তাটি সোজা করার জন্য দুই ওয়ার্ড মেম্বারের উপস্থিতিতে আমিন দিয়ে জায়গা মেপে দুই পাশে খুটি দিই । কিন্তু আবুল হাসেম গংরা খুটি গুলো ফেলে দেয়। পরে তার ভাই ফারুক তাদের জমিনের অংশ কেটে ফেলেন।
এ বিষয়ে নারুয়া গ্রামের ওয়ার্ড সদস্য মুক্তার হোসেন বলেন, তিনিও একজন সরকারি আমিন। এ জায়গা তিনি মেপে দিয়েছেন। কিন্তু রাস্তা কাটার জন্য কোন নির্দেশ দেননি।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) আশরাফুল হক বলেন, লোক পাঠিয়েছি। খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।





