সারা দেশ

নরসিংদীতে প্রধান শিক্ষকের বদলীর দাবীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

  • ''
  • প্রকাশিত ২৮ জানুয়ারি, ২০২৪

নরসিংদী প্রতিনিধি:

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা, শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাৎ, নিম্নমানের খাবার পরিবেশন ও প্রধান শিক্ষকের অসৌজন্য মূলক আচরনসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তার এর বদলীর দাবিতে নরসিংদী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জড়ো হতে থাকে। পরে সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে করতে নরসিংদী শহর পদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে অবস্থান কর্মসূচীতে রূপ নেয়।

এসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বসে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে স্কুলের সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের বদলীর দাবিতে ৭২ ঘন্টা ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেন। এসময় তারা প্রধান শিক্ষকের বদলীর দাবিতে বিভিন্ন প্লাকার্ড প্রদর্শন করে স্লোগান দেয়।পওে জেলা প্রশাসক ড. বদিউল আলমের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এসময় তিনি বিষয়টি তদন্তে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা সুলতানা নাসরিনকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ঘোষণা করেন। পরে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে তারা ডিসি অফিস ত্যাগ করেন।

স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালরে প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তার বিভিন্ন সময় স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করে। গত বৃহস্পতিবার স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পূর্ব নিধারিত বিদায় অনুষ্ঠানের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তার বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে আগত শিক্ষার্থীদের স্কুলে বা অনুষ্ঠান স্থলে ডুকতে দিচ্ছিল না। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে মুখে শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান স্থলে ডুকতে দিলেও ৫ মিনিটের আলোচনার পর বিদায় অনুষ্ঠান শেষ করে দেয়।

এতে ফুসেঁ উঠে শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয় প্রধান শিক্ষক। এছাড়া বিদায় অনুষ্ঠান বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হলেও নিন্ম মানের খাবার বিতরন করা হয়। টিফিনেও নিন্মমানের খাবার দেয়ার প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। শীতের সকালে পিটি (দৈনিক সমাবেশ) নামে শিক্ষার্থীদের শরীর থেকে শীতের কাপড় খুলে নিতেন। ফলে অনেক শিক্ষার্থী শীতে জবুথবু হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সবশেষ এস এসসি পরীক্ষার্থী (দশম শ্রেনীর) শেষ ক্লাসের দিনে র‌্যাক ডে’র আয়োজন করা হয়। ওই সময় ৩৫০ জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হলেও,সে অনুষ্ঠান করেনি প্রধান শিক্ষক। ওই সময় শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান করতে না দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে তালা মেরে রেখে দেওয়ার অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়,স্কুলের ৪৬ জন শিক্ষক থাকলেও বিদায় অনুষ্ঠানে ৬ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এই ধারাবাহিকতায় স্কুলের বিদায়ী শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের অপসারনের দাবীদে আন্দোলনে নামে।

আরো জানা যায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষক শিউলি আক্তার স্কুলের কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্টা ও অর্ধশতাধিক কম্পিউটার ক্রয় সহ স্কুলের উপকর ক্রয়ের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট করেছে। স্কুলের টিফিন সহ সকল উপকরণ প্রধান শিক্ষকের স্বামী স্কুলে সরবরাহ করেন। যা নিয়ম বহিভূত। প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রধান শিক্ষকের রোশানলে পরতে হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারনে এক সাথে স্কুলের ১৫ শিক্ষককে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। ফলে তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। গতবছর শাখা সিদুর পড়ে বিবাহিত মেয়েরা এসএসসি পরীক্ষা দিতে গেলে প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে দেয়নি। পরে তৎকালীন উপজেলা নিবার্হী কর্মমর্তার হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। যা বিভিন্ন জাতীয় গনমাধ্যমে উঠে আসে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও তদন্ত করা হলেও সে রিপোর্ট আলোর মুখে দেখেনি।

স্কুলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ম্যাডাম শুধু আমাদের সাথেই খারাপ ব্যবহার করে না, অভিভাবকদের সাথে ও খারাপ ব্যবহার করে। আমরা তার ভয়ের কারণে কোন প্রয়োজনে ও ম্যাডামের কাছে যেতে পারিনা। আমরা শিক্ষার্থী বান্ধব প্রধান শিক্ষক চাই। স্কুলের এক অভিভাবক বলেন, প্রধান শিক্ষক আমাদের মেয়েদের হেনস্তা করছেন। তিনি এসএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের ডেকে নেয়ার হুমকি নিয়েছে। তার সীমাহীন দূর্নীতির কারণে স্কুলের আজ বাজে অবস্থা। আমরা প্রধান শিক্ষকের দ্রুত কদলী চাই।

নরসিংদী জেলা প্রশাসক ড. বদিউল আলম বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আমাকে একটা অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছে। তার প্রেক্ষিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটি ৫ কার্যদিবসে তাদের তদন্ত রিপোর্ট দিবে। রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর শিক্ষার্থীদের ভয়ের কোন কারণ নেই তাদের পাশে জেলা প্রশাসন আছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads