নতুন বছরে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দেখতে চায় কক্সবাজারবাসী

ফাইল ছবি

জাতীয়

নতুন বছরে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দেখতে চায় কক্সবাজারবাসী

  • মাহাবুবুর রহমান, কক্সবাজার
  • প্রকাশিত ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে কেটে যাচ্ছে ২০১৯। আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ২০২০ সাল।  ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। আর সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করেও মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সফল হয়নি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। ইতোমধ্যে দিন দিন ঘনিভুত হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট। ফলে কক্সবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে। তাই দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে নতুন বছরের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন কক্সবাজারের স্থানীয় সচেতন মহল।

নতুন বছরে কি প্রত্যাশা এমন প্রশ্নের উত্তরে কক্সবাজারের বেশিরভাগ মানুষই বলছেন, আমাদের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ভাল দেখছি না তাই দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।

জানতে চাইলে টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন, যে যাই বলুক আমরা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি আমাদের ভবিষ্যত ছেলে মেয়েদের চরম সংকটের মধ্যে আছে। কারণ রোহিঙ্গারা দিন দিন ভয়ংকর রূপ ধারন করছে। ইতোমধ্যে সক্রিয়ভাবে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। গত ২ বছরে ইয়াবা বিরোধী অভিযানে নারীসহ ৪৯ জন রোহিঙ্গা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও তারা এখনও ইয়াবাসহ আটক হচ্ছে।  তাই সব রোহিঙ্গাকে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই হতে আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।

উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন,সরকার আর্ন্তজাতিকভাবে নানাভাবে মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে। তবে তাদের কূটকৌশলে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না। ২০১৯ সালে দুইবার প্রত্যাবাসন করার জন্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করলেও সফল না হওয়া আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক।

উখিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন,আমার মতে রোহিঙ্গাদের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। আর রোহিঙ্গারাও দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা ১২ লাখের বেশি। কারণ গত ২ বছরে লাখের বেশি শিশু জন্ম নিয়েছে। এখাবে প্রতিদিন তাদের সংখ্যা বাড়ছে এই অবস্থা চলতে থাকলে স্থানীয়রা একদিন পরাধীন হয়ে যাবে। তখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিবেচনায় নিয়ে তারা যে কোনো দাবি করে বসতে পারে। তাই জাতীয় সংকট তৈরি না হওয়ার আগে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করা হউক এটাই একমাত্র প্রত্যাশা।

এদিকে কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম ফজলুল করিম,আইনজীবী সমিতির সভাপতি আ.জ.ম মঈন উদ্দিন, জেলা সুজন সভাপতি প্রফেসর এম এ বারীসহ সুশীল সমাজের দাবী রক্তপাত হওয়ার আগেই দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে নতুন বছরে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads