সারা দেশ

দিনমজুর  শুকুর  আলীর  দুর্বিষহ  জীবন 

  • প্রকাশিত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সিংগাইর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

গাছ  থেকে পড়ে  ডান হাত ভেঙ্গে গেছে  অনেক আগেই।  দীর্ঘ দিন  ইট ভাটায় কাজ  করে হার্টের  রোগে আক্রান্ত।  অর্থের অভাবে  চিকিৎসা নেওয়া দূরে  থাক সংসার চালানোই  কষ্ট ।  আমি কাজ করতে পারিনা ।  আমার পুলাপানের মায়ে চকে বাদারে কাজ করে কিছু ট্যাকা কামাই করে তাই দিয়ে পাঁচ জন সন্তান  নিয়ে এক বেলা খেয়ে আরেক বেলা  না খেয়ে কোন রকম দিনাতিপাত করছি।  আল্লাহ ছাড়া কেউ আমাগো  দেখার নাই। 

আবেগপ্লতকন্ঠে ও অশ্রু সিক্ত চোখে কথাগুলো বলছিল , উপজেলার  বলধারা ইউনিয়নের কালিয়াকৈর নয়াপাড়া গ্রামের মৃত হাবেজ উদ্দিনের ছেলে শুকুর আলী। শৈশব বয়সে  মাতা পিতা  হারান ।  এতিম শুকুর আলীর  ভাই বোন বলতে কেউ নেই। পিতা  মাতা  মারা যাওয়ার৷ পর শুরু  হয় তার কষ্টের  জীবন। অন্যের জমিতে দিন মজুরের কাজ করে  কোন রকম  সংসার চালান তিনি।  জায়গা জমি বলতে  পিতার রেখে  যাওয়া  ভিটে বাড়ীর  মাত্র  ছয় শতাংশ   জমি  রয়েছে। 

বৃষ্টি তে ভিজে, রোদে পোড়ে অন্যের জমিতে কাজ করতে করতে দেহ যেন কংকালসার।  অভাবের ঘানি টানতে টানতে বিরক্ত  হয়ে প্রথম  স্ত্রী  তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে ।  স্ত্রী চলে যাওয়ার পর একাকী  হয়ে যায় শুকুর আলী।  সবাই তাকে ছেড়ে গেলেও  দুঃখ  তাকে ছাড়ে নাই, দুখ নাকি তার মায়ের পেটের ছোট ভাই। এরপর দ্বিতীয়  বিবাহ করেও শুকুর আলীর জীবনে সুখ আসেনি ।  স্ত্রী পাচ  সন্তান  নিয়ে  কষ্টে  কাটে  তার  জীবন।

ভাংঙ্গা  হাত  নিয়ে ইটভাটায় কাজ করতেন শুকুর আলী। হাটের সমস্যা  জন্য এখন আর ইটভাটায় কাজ  করতে পারেন না।   স্ত্রী  অন্যের বাড়ীতে জিয়ের  কাজ ও অন্যের জমিতে কাজ করে যে টাকা পান তা৷  দিয়ে চলতেই  কষ্ট হয় তাদের।  সংসারের বেহালদশায়  চিকিৎসা নেওয়া   দূরে থাক,  পাঁচ  ছেলে সস্তানের ভরণ পোষণে হিমশিম  খাচ্ছেন তিনি ।  তার  স্ত্রী  যে টাকা উর্পাজন করেন তা যেন  নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত  ।  অনেক সময় স্বামীর ঔষধ  কিনলে খাদ্য কিনতে পারেন না আবার ঔষধ কিনলে আহার জোটেনা। 

তাদের যে থাকার ঘর সেটিও ছাপড়া ঘর। চার পাশের বেড়াও  পাটখড়ির ।   তাও আবার ভেঙ্গে গেছে ।   শীত কিংবা বৃষ্টি  ফিরানোর জন্য পলিথিন দিয়ে  ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সংসারে আর্থিক স্বচ্ছতা  ফিরিয়ে আনার জন্য  ২ টি গরু বর্গা লালন পালন করতেছিল । প্রায় লক্ষধিক টাকা খরচ করেন গরু দুটি মোটা তাজা করার জন্য।  আশা ছিল গরুদুটি বিক্রি  করতে পারলে  কিছু টাকা চালান হবে,   স্বচ্ছতা  ফিরে  আসবে তার সংসারে।  সে আশা  পূরণ  হলো  না শুকুর আলীর।  অঞ্জাত রোগে   গরু দুটি মারা যাওয়ায়   সর্বশান্ত। সরকারি  সাহায্য  সহযোগিতা  বলতে তিনি কিছুই পাননি। শীত গেল একটা কম্বলও জোটেনি কপালে, কত চাল ডাল, তেলের কাড ধনী লোকেরা পেল আমরা পেলামনা। নির্বাচন আসলে মেম্বার  চেয়ারম্যানরা সব দেওয়ার কথা বলে  নির্বাচন চলে গেলে আর কোন হদিস থাকেনা। 

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার  আলী আহাদী  হোসেন  বলেন সরেজমিনে  গিয়ে  দেখে   অসহায় শুকুর আলী যাবতীয়  ব্যবস্থা নেওয়া  হবে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads