সারা দেশ

তাল পাতার পাখা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা

  • ''
  • প্রকাশিত ১৫ মার্চ, ২০২৪

নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁয় তাল পাতার পাখা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। বরেন্দ্র এলাকায় তীব্র দাবদাহে বাড়তে শুরু করেছে। গরমে একটু স্বস্তি পেতে এ এলাকার মানুষের কাছে তালপাতার পাখার কদর বেড়েছে। পাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভালাইন গ্রামের দুই শতাধিক নারী-পুরুষ। যদিও স্থানীয়দের কাছে গ্রামটি 'পাখা গ্রাম' নামে পরিচিত।

জেলা সদর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পশ্চিম  উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের ভালাইন গ্রামে প্রায় ৭০টি পরিবারের বাস। তারা বংশানুক্রমে প্রায় ৩৫ বছর ধরে পাখা তৈরির কাজ করছেন। হাতপাখা তৈরি করে সংসারে সচ্ছলতা

ফিরেছে ওই গ্রামের অনেকের। যদিও এই পাখা কারিগরদের ঘিরে সেখানে তৈরি হয়েছে একটি দাদনচক্র। তাদের হাতে বন্দি হয়ে আছে কারিগররা। তবে স্বল্প সুদে ঋণ ও সরকারি সুবিধা পেলে তারা আরও এগিয়ে যাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাখা তৈরির কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে প্রচন্ড দাবদাহে ভ্যাপসা গরম পড়ে। এ সময় তালপাতা দিয়ে তৈরি হাতপাখার চাহিদা বেড়ে যায়। এছাড়া প্রতি বছরই ভালাইন গ্রাম থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে কয়েক লাখ পাখা সরবরাহ করা হয়।

পাখা তৈরির উপকরণ তালপাতা সংগ্রহ এবং বিক্রির কাজ মূলত পুরুষরাই করে থাকেন। তালপাতা রোদে শুকিয়ে পানিতে ভেজানোর পর পরিষ্কার করে পাখা তৈরি করা হয়। এরপর রং মিশ্রিত বাঁশের কাঠি, সুঁই-সুতা দিয়ে পাখা বাঁধার কাজ করেন গৃহবধূরা। অনেক নারী গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি তালপাখা তৈরি করে সংসারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। তবে পাখা তৈরিতে যে পরিশ্রম ও খরচ হয়, সে তুলনায় দাম পান না তারা। দাদনচক্র ও বিভিন্ন এনজিও (বেসরকারি সংস্থা) থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে কাজ করতে হয় তাদের। অন্যদিকে স্বল্প পরিশ্রমে বিনিয়োগ করে বেশি লাভে বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা।

ভালাইন গ্রামের গৃহবধূ সুফিয়া বেগম বলেন, পুরুষরা শুধু তালপাতা নিয়ে এসে শুকানোর পর পরিষ্কার করে দেয়। এরপর সাংসারিক কাজের পাশাপাশি গৃহবধূরা পাখাকে সুঁই-সুতা দিয়ে সেলাই ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করে। একজন নারী প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০টা পাখা তৈরি করতে পারেন।

কবিজান বেওয়া  আরও বলেন, গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ পাখা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। বিভিন্ন এনজিও এবং দাদন চক্রের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে তাদের পাখা তৈরি করতে হয়। তাদের সুদ দিতেই লাভের একটি অংশ চলে যায়। সরকার যদি স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে কিছুটা লাভ হতো।

পাখার কারিগর আব্দুর করিম ৩২ বছর ধরে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন হাটে ঘুরে ঘুরে পাখা বিক্রি করেন। এটি তার পৈত্রিক ব্যবসা। তিনি বলেন, প্রতিটি তালপাতার দাম পড়ে পাঁচ টাকা, বাঁশের কাঠি ও সুতা খরচ হয় দেড় টাকা। প্রতিটি পাখা তৈরিতে খরচ হয় সাড়ে ছয় টাকা। প্রতি পিস পাখা ১২ থেকে ১৩ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করা হয়। ব্যবসায়ীরা ৩০ থেকে ৩২ টাকা করে প্রতিটি পাখা বিক্রি করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads