ট্রলারডুবি, তিনদিন পর ভাসল স্কুলছাত্রীর মরদেহ

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

দুর্ঘটনা

ট্রলারডুবি, তিনদিন পর ভাসল স্কুলছাত্রীর মরদেহ

  • রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর
  • প্রকাশিত ৮ জানুয়ারি, ২০২০

নতুন বইডি পাইয়া আমার মাইয়াডা কি যে খুশি হইছে। দিনে যে কতবার যে বইগুলা নিয়া দেখছে। হেই দিনও বইয়ের মরাট (মলাট) লাগব কইয়া পিরাপিরি করছে।  অহন এইতা বই কিনু (কোনো) কামে লাগত না বলেই বুকে বইগুলো চেপে ধরে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্রহ্মপুত্র নদীতে ট্রলার ডুবে নিহত হওয়া স্কুল ছাত্রী তিথি রানীর মা অঞ্জনা রানী ধর। 

আজ বুধবার সকালে নদীতে ট্রলার ডুবির তিনদিন পর ভেসে উঠে নিহত স্কুল ছাত্রীর মরদেহ।  পরে স্থানীয়রা পরিবারে খবর দিলে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করেন। আইনগত কাজ শেষে করে বিকালে সৎকার করা হয় মরদেহের।

গত রোববার প্রসাদ খাওয়া অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় কাপাসিয়া গফরগাঁও সীমান্তবর্তী নয়ানগর গ্রাম এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদীতে বালুবাহী নৌকার সঙ্গে ধাক্কায় ট্রলারডুবির এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই ট্রলারে ২২ জন যাত্রী ছিল। সবাই সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও তিথি তলিয়ে যায়। গত দুই দিন দফায় দফায় ডুবুরিদল লাশ উদ্ধারে অভিযান চালায়।

নিহতের স্বজনরা জানান, রোববার সকালে বাড়ির শিশু শ্রাবণ ধরের প্রসাদ (মুখে ভাত) খাওয়া শেষে বাড়ি ফেরার সময় নয়ানগর এলাকায় দুই নৌকার সংঘর্ষে সবাই নদীর পানিতে পড়ে যায়। পরে আশ পাশের মানুষের সহায়তায় সবাই পাড়ে উঠতে পারলেও তিথি রানী ধর নিখোঁজ হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। শিশু (৬ মাস) শ্রাবণও তলিয়ে গিয়েছিল। পরে আধা ঘন্টা পরে তাকে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। সে বেঁচে আছে।

তারা আরো জানান, দুই দিন ধরেই ডুবুরিদল নদীতে তিথির লাশ খুঁজেছে। পরে আজ বুধবার সকালে তাঁর (তিথি রানীর) ভাসমান লাশ দেখে আমাদের খবর দেওয়া হয়।

নিহত তিথির মা অঞ্জনা রানী জানান, তিথি আমাদের একমাত্র মেয়ে। সে নিগুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ত। সে খেলাধুলায় খুবই মেধাবী ছিল। রেকেট (ব্যাডমিন্টন) খেলতে সে খুব পছন্দ করত। এবার একটি র‍্যাকেট কিনে দিতে বেশ বায়না ধরেছিল। অভাবের সংসারে টাকার জন্য কিনে দিতে পারিনি। কয় দিন আগেই স্কুল থেকে নতুন বই পেয়েছে।

তিনি আরো জানান, তার স্বামী মতিলাল ধর আগের সংসারে দুই ছেলে রেখে গেছেন। তাঁর গর্বে জন্ম নিয়েছে দুই ছেলে আর এক মেয়ে তিথি। দুই ছেলে ছোট আর তিথি বড় ছিল। ওই সংসারের বড় দুই ছেলেসহ এক সঙ্গে তাদের বসবাস ছিল। গত ৬ মাস আগে স্ট্রোক করে তার স্বামী মতিলাল মারা যান। এর পর থেকেই জটিল অভাব নিয়ে সংসার চলছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ইউপি সদস্য জানান, মাগরিবের আজানের একটু পরেই এ র্দুঘটনা ঘটে। এ সময় খুব কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল চারপাশ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ সময় দুটি নৌকার (ট্রলার) কোনোটিতেই আলোর ব্যবস্থা ছিল না। অনুমানেই নদীতে নৌকাদুটি চলছিল। কোনো নৌকাই কোনো নৌকাকে দেখতে পারেনি। আলোর (বাতি) ব্যবস্থা না থাকায় এ র্দুঘটনা ঘটেছে। 

কাপাসিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, আজ বুধবার সকাল আটটার দিকে নিখোঁজ হওয়া স্কুল ছাত্রীর মরদেহ ভেসে উঠে দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। এ সময় পরিবারকেও খবর দেওয়া হয়। এর আগে দুই দিন ডুবুরি দল মরদেহ উদ্ধারে কাজ করে। দুই দিন চেষ্টা করেও লাশ উদ্ধার করা যায়নি।

তিনি বলেন, বালুবাহী নৌকা এখনো আটক হয়নি। পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads