বাংলাদেশ আগে কোনো শিল্প বিপ্লবে যুক্ত হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেনি। কিন্তু এবার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে যোগ দিচ্ছে, টেকসই শিল্পায়নের লক্ষ্যে এ শিল্প বিপ্লবের সুফল কাজে লাগানো হবে। আর সেক্ষেত্রে সার্বিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
গতকাল বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এ কথা বলেন। ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় উৎপাদনশীলতা’ শীর্ষক ওই সভার আয়োজন করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও)।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় খাতভিত্তিক দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকারখানার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে ১০ বছর মেয়াদি ‘ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে এনপিও প্রতিষ্ঠা হলেও আগে তাদের কাজে গতি ছিল না। কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বিশাল কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সিঙ্গাপুর, জাপানের মতো দেশগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মডেল অনুসরণ করে এ প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাচ্ছে।
শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনপিওর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব লুৎফুন নাহার বেগম এবং এনপিওর বিদায়ী পরিচালক এস এম আশরাফুজ্জামান আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন। ওই অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০১৯ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়কও উন্মোচন করেছেন।
শিল্প সচিব বলেন, এসডিজির শিল্প সম্পর্কিত লক্ষ্য অর্জনে দক্ষতার সঙ্গে সীমিত সম্পদ কাজে লাগানোর যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে কম খরচ ও কম সময়ে বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
আশরাফুজ্জামান বলেন, উৎপাদনশীলতার বিচারে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে। উৎপাদনশীলতার উন্নয়নে এনপিও প্রণীত মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী চার বছরের মধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ করা সম্ভব। তারা খাতভিত্তিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে জাপানের টিকিউএম, কাইজেন, সিক্সসিগমা, ফাইভএস ইত্যাদি কার্যকর কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে এনপিও সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন গেট থেকে শুরু হয়ে জিরো পয়েন্ট ও গুলিস্তান সড়ক এবং জাতীয় স্টেডিয়াম মোড় হয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এসে শোভাযাত্রাটি শেষ হয়।
ওই শোভাযাত্রায় শিল্প সচিবের নেতৃত্বে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এনপিও, এপিও সোসাইটি ফর বাংলাদেশ, নাসিব, ট্রেডবডি ও উদ্যোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, শিল্পকারখানার মালিক, শ্রমিক ও কর্মচারীরা অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সামনে এক পথসভারও আয়োজন করা হয়েছিল।





