অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী দেখা যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস সরকার সেটি বিবেচনা করবে।
আজ বুধবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে শিগগিরই কোনো সিদ্ধান্ত আসবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। এটা আমাদের পর্যায়ে এলে আপনাদের অবহিত করতে পারবো। আমার বিশ্বাস যখন যেটা করা দরকার সরকার অবশ্যই সেটি করবে।
তিনি বলেন,আপনারা জানেন জ্বালানি তেলের দাম কতটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল,এখন আমরা নিম্নমুখী দেখতে পাচ্ছি। আমার বিশ্বাস সরকার সেটি বিবেচনা করবে। এটার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মধ্য আয়ের দেশগুলো ট্র্যাপের মধ্যে পড়ে যাওয়াটা আমাদের জন্য এই মূহুর্তে কার্যকর নয়। ২০৪১ সাল পর্যন্ত আমরা যে পরিকল্পনা করেছি সেখানে বাৎসরিক আমাদের প্রক্ষেপণ এবং বাস্তবায়ন সবকিছু উল্লেখ করা আছে। আমি মনে করি অন্যদের সঙ্গে আমাদের মেলানো যাবে না।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, যদি ভিয়েতনামের কথা বলেন, তাদের বিনিয়োগ অলমোস্ট আসে বাইরে থেকে, বিদেশি বিনিয়োগ থেকেই তারা করে। সেখানে আন্তর্জাতিক বাজার আপস অ্যান্ড ডাউন কিছু হলে বৈদেশিক বিনিয়োগ ইম্প্যাক্টেড হয়। আমাদের দেশে তা উল্টো। আমাদের দেশে আমরা যা করে আসছি তা নিজেদের বিনিয়োগ থেকে করছি। মূলত আমাদের বিনিয়োগ অনেক বড়। ফলে আমাদের ওপর এর প্রভাব আসবে বলে মনে করি না।
বাজারে ডলারের দাম ওঠানামা করলেও খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের কিছু পার্থক্য আছে, সেটি আমরা শিকার করি। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন জিনিসপত্রের দাম কমে যায়, আমাদের মূল্যস্ফীতিতে আমদানির মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আমরা যখন বাইরে থেকে মালামাল কিনি ডলারের রেটের কারণে সেই মালামালের দামটা বাড়ে। যেহেতু রপ্তানি বাড়ছে আমদানিও বাড়ছে। আমদানির জন্য সেখানে বিনিয়োগ করা লাগে, সুতরাং বাজার ওঠানামা করবে। সেটার অনেক বেশি ওঠানামা দেখতে পারব না। আমাদের এখানে রেট বেশি একটা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।
এ মুহূর্তে বাজারে এক মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ৯০ দশমিক ১০ টাকা পাবেন একজন গ্রাহক। কোথাও কোথাও ৯১ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারণ করে দেওয়া হার হচ্ছে ৮৫ দশমিক ৭০ টাকা। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম বাড়ানোর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকেও দাম বেড়েছে। সেখানে ডলারের দাম ৮৮ টাকা। আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া হার প্রতি ডলারের জন্য ৮৫ দশমিক ৭৫ টাকা।





