নূরুল আজিজ চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ
২০১১ সালে প্রকাশিত জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার তালিকায় থাকা ভোটারদের তথ্য হালনাগাদ হচ্ছে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়সীমায়। আর ভোটারদের ভুল সংশোধন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে সারা বছর। তবে ভুল সংশোধন প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতার পড়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সাধারণ ভোটাররা। তারা আঞ্চলিক কার্যালয়ে সেবা বঞ্চিত হয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন সরাসরি নির্বাচন কমিশনে। এতেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। এমন অভিযোগ স্থানীয় সেবা প্রত্যাশি ভোটারদের।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ভোাঁর রয়েছে দুই লাখ ৭৪ হাজার ৭০৭জন। এরমধ্যে ২০১১ এর জড়িপে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির কাজ করেন স্থানীয় এনজিও কর্মী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সে সময় ভোটার তালিকায় নাম লিপি করতে যেয়ে ভোটারদের তথ্যে নানারকম ভুল ছাপা হয়। এমনকি বাবার নাম, মায়ে নাম ছাড়াও নিজ নামেও ভিন্নতা প্রকাশ পায়। ফলে তারা সংশোধনের জন্য এ কার্যালয়ে সহযোগিতা নিতে আসেন।
এদিকে সাধারণ ভোটাররা অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া না জেনে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এদের মাঝে গুতিয়াবো এলাকায় বাসিন্দা মৃত ছাদেক মিয়ার ছেলে সিরাজ মিয়া জানান, তার ভোটার আইডি কার্ডে সব ঠিক থাকলেও অনলাইনে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এতে বিদেশ যাত্রায় তার সমস্যা হয়েছে। মুড়াপাড়া এলাকার আকলিমা খাতুন একটি এনজিওতে কাজ করছেন। টাকা প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ঋণ তুলতে ভোটার কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের প্রয়োজন পড়ে। তিনি উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে ওই অফিসের কর্তব্যরত সহকারি তাকে অতিরিক্ত টাকার প্রস্তাব দেয়া হয়। পরে সংশোধন করতে না পেরে ঋণ পাননি তিনি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল পরিলক্ষিত হলে ভোাঁরগণ অনলাইনে সঠিক নিয়মে আবেদন করলে অবশ্যই সেবা পাবেন। তবে সম্প্রতি নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত থাকায় কিছুদিন ভোগান্তি হয়েছে। তাছাড়া সব সেবা উপজেলা নির্বাচন অফিসের আওতায় নেই। ফলে আঞ্চলিক, জেলা ও কশিমন- এ তিন ক্যাটাগরিতে সোব দেয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি জড়িপকালে তালিকা প্রস্তুতে যারা কাজ করেছেন তাদের দায়ী করে বলেন, ভোটাররা তো এতো কিছু বুঝে না। যারা তালিকা প্রণয়ন করেছেন, তারা যদি সতর্ক হয়ে সব যাচাই করে নাম লিখত এখন এমন সমস্যা হতো না। অতিরিক্ত টাকা লেনাদেনা বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ফি এর অতিরিক্ত কেউ নিয়ে থাকলে প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।





