জাতিসংঘে ৪১ ভাষার স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন

জাতিসংঘ লোগো ও বাংলাদেশের পতাকা

ছবি : সংরক্ষিত

জাতীয়

জাতিসংঘে ৪১ ভাষার স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন

  • নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে যথাযোগ্য মর্যাদায় তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দফতরের কনফারেন্স রুম-২-এ এই অনুষ্ঠান হয়। এদিন বাংলাসহ ৪১ ভাষার স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন করা হয়।

জাতিসংঘের বৈশ্বিক যোগাযোগ বিভাগ, ইউনেস্কোর নিউইয়র্ক কার্যালয়, জাতিসংঘ পোস্টাল বিভাগ, জাতিসংঘ সচিবালয়ের বহুভাষাবাদ সমন্বয়কারী কার্যালয়, নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিস এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনসহ গুয়াতেমালা, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া ও পাপুয়া নিউগিনি মিশনের সম্মিলিত উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হয়। দুই পর্বে বিভক্ত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এ আয়োজনের শুরুতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাগত ভাষণ দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

আলোচকরা পৃথিবীর প্রতিটি ভাষা সংরক্ষণ ও সুরক্ষা, বহুভাষিক শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়া এবং ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে

জাতিসংঘে ৪১ ভাষার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বাহন হিসেবে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নিজ নিজ দেশের ভাষাগত বৈচিত্র্যের সংরক্ষণ ও উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তারা। এ ছাড়া বাঙালির ভাষা আন্দোলন এবং এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেতে বাংলাদেশের নেতৃত্বের কথাও তারা তুলে ধরেন।

প্রতিবছর জাতিসংঘে এ দিবসটি উদ্যাপনে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বিশেষ ভূমিকার কথাও উঠে আসে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষ বাংলা ভাষাতে কথা বলেন। বিশ্বের সপ্তম জনপ্রিয় ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবটি তিনি পুনরায় উত্থাপন করেন।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এএফএম রুহুল হক, জাতিসংঘে মোজাম্বিকের স্থায়ী প্রতিনিধি অ্যান্তোনিও গুমেন্ডি, পাপুয়া নিউগিনির স্থায়ী প্রতিনিধি ম্যাক্স হুফানেন, নাইজেরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি তাইজানি মোহাম্মাদ ব্যান্দে, গুয়াতেমালার উপস্থায়ী প্রতিনিধি ওমর ক্যাস্টানেডা এবং মহাসচিবের পক্ষে জাতিসংঘের বৈশ্বিক যোগাযোগ বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অ্যালিসন স্মেল।

ইউনেস্কোর মহাপরিচালকের পক্ষে নিউইয়র্ক ইউনেস্কো অফিসের পরিচালক মারিয়ে পাওলি রোউডিল, জাতিসংঘ পোস্টাল বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষে জাতিসংঘের অপারেশনাল সাপোর্ট বিভাগের প্রশাসন পরিদফতরের পরিচালক প্যাট্রিক ক্যারে। এ ছাড়া এএফএম রুহুল হকের নেতৃত্বে জাতিসংঘে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) বার্ষিক শুনানিতে যোগদান উপলক্ষে নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. আবু জহির ও আহসান আদেলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

এএফএম রুহুল হক বলেন, বাংলাদেশ বহুভাষাভাষী, বহু সংস্কৃতির এবং বহুধর্মের একটি দেশ। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি, ভূমি ও সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর ভাষা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রথা সংরক্ষণ করতে দেশের তিনটি পার্বত্য এলাকাসহ সারা দেশে ৭টি বিশেষায়িত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা হয়েছে।

অ্যালিসন স্মেল বলেন, বিশ্বের সাত হাজার ভাষার মধ্যে প্রায় ৪০ ভাগই আজ হুমকির সম্মুখীন। আজকের দিনটি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণে আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেয়। বহুভাষাবাদকে জাতিসংঘের ডিএনএ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এ বছরকে ‘আন্তর্জাতিক দেশীয় ভাষা বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ আমাদের বৈশ্বিকভাবে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টির সুযোগ এনে দিয়েছে। ইউনেস্কোর মহাপরিচালকের বাণী পড়ে শোনান নিউইয়র্ক ইউনেস্কো অফিসের পরিচালক মারিয়ে পাওলি রোউডিল ও নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিও-এর বাণী পড়েন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র কার্যালয়ের ডেপুটি কমিশনার অ্যাইসসাতা কামারা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads