ছবি ও ভিডিও সরাতে পরীমনিকে আইনি নোটিশ

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

ছবি ও ভিডিও সরাতে পরীমনিকে আইনি নোটিশ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত 'অশ্লীল ছবি ও ভিডিও' অপসারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ছবি প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে চিত্র নায়িকা পরীমনিকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আজ সোমবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার এবং ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী ইসমাতুল্লাহ লাকী তালুকদার এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।

এ দুই আইনজীবী নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনিকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, পরীমণি গত ১ সেপ্টেম্বর মাদক মামলায় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় তার হাতের তালুতে লেখা ছিল ‘ডোন্ট লাভ মি বিচ’। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর পরীমণি মামলার শুনানির জন্য আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। সেদিনও হাতের তালুতে যা লেখা ছিল তা অশ্লীল। 

এ ছাড়া পরীমণি গত ২৪ অক্টোবর ঢাকার হোটেল রেডিসন ব্লুতে ৩০তম বার্থডে পার্টির আয়োজন করেন। সেদিন তার পোশাক ও প্রদর্শিত অঙ্গভঙ্গি অশ্লীল বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

লিগ্যাল নোটিশে আরও বলা হয়, পরীমণি একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিধায় অনেকেই তাকে অনুসরণ করে। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীরা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। শিশু-কিশোরদের গণ্ডি ছোট থাকে। চোখের সামনে তারা যা দেখে অনায়াসে তা আয়ত্ত করে ফেলে। তাই পরীমণিকে এসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

এতে বলা হয়, পর্নোগ্রাফি আইন-২০১২ সালের ২-এর ‘গ’ উপধারায় ‘যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোনও অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যা চলচ্চিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনও উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যার কোনও শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই’ তাকে পর্নোগ্রাফি বলা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে একই আইনের ৮ ধারার ৪ উপধারায় বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি পর্নোগ্রাফি প্রদর্শনের মাধ্যমে গণউপদ্রব সৃষ্টি করিলে তিনি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং ওইরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পর্নোগ্রাফি আইনের অপরাধগুলো আমলযোগ্য এবং জামিনযোগ্য নয়।’

পরীমণি পর্নোগ্রাফি আইনে গ্রাফিকস বা অন্য কোনও উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যার কোনও শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই সংজ্ঞা মতে অপরাধ করেছেন। বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতির সুন্দর ঐতিহ্য আছে। পরীমণির কাছ থেকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন শিল্পী হিসেবে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ সবাই প্রত্যাশা করেন।

নোটিশে নায়িকাকে, শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই এমন অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য, চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস কিংবা অন্য কোনো চিত্র ধারণ ও প্রদর্শন থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে বলেছেন দুই আইনজীবী।



আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads