চেয়ার বসানো হয়েছে বাথরুমে

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

চেয়ার বসানো হয়েছে বাথরুমে

  • মাহাবুবুর রহমান, কক্সবাজার
  • প্রকাশিত ৩০ মে, ২০২১

কথায় আছে-সরকারি কা মাল দরিয়া মে ঢাল। সে কথা বাস্তবে দেখা গেল কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে গিয়ে। প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ ফার্নিচার কেনা হয়েছে। বাজার মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে কেনা ফার্নিচার এখন কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারছে না মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বরং নষ্ট হচ্ছে বেশিরভাগ আসবাবপত্র। আর কাজে লাগাতে না পেরে বাথরুমেও বসানো হয়েছে চেয়ার।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন ফ্লোরে গিয়ে দেখা গেছে, বেশিরভাগ রুম তালা দেওয়া। পুরো ভবনে মাত্র ২/৩টি রুমে শিক্ষক-কর্মচারীদের সাক্ষাৎ পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ ক্লাস রুম, পরীক্ষাগার, লাইব্রেরি, দাপ্তরিক রুম ছিল তালাবদ্ধ। তবে বেশিরভাগ রুমের সামনে এবং বড় হল রুমে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে চেয়ার, টেবিল, সোফাসহ দামি ফার্নিচার। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি রুমে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে বেশ কিছু সরঞ্জাম। তবে অবাক করার বিষয় হলো, বাথরুমে বসানো হয়েছে চেয়ার। তাও ভুল করে একটি বাথরুমে নয়, দুটি বাথরুমে বসানো দেখা গেছে চেয়ার। এ ছাড়া ওপরের তলায় ব্যবহার না করেই নষ্ট হচ্ছে বেশিরভাগ ফার্নিচার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের এক অধ্যাপক বলেন, তৎকালীন সময়ে অধ্যক্ষ আমাদের বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। সেই স্বাক্ষরই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি আরো বলেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, বাজারে একটি চেয়ারের দামি যদি তিন হাজার টাকা হয়, সেটা কীভাবে মেডিকেল কলেজের জন্য ১৩ হাজার টাকায় কেনা হলো?

এ বিষয়ে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া বলেন, আমি যোগদান করার পর থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে সবকিছু পরিচালনা করা হচ্ছে। আর পূর্বের দুর্নীতি মামলার বিষয়ে আমাদের মন্তব্য করার কিছুই নেই।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতির বরপুত্র আবজালের স্ত্রী রুবিনা খানমের মালিকানাধীন রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে প্রায় ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। ভাউচারে সরবরাহকৃত প্রতিটি পণ্যের মূল্য বাজার মূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক হারে বেশি দেখানো হয়েছে। পরে তা দীর্ঘ তদন্ত করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে আবজালসহ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. রেজাউল করিম, অধ্যাপক ডা. সুবাস চন্দ্র সাহা, অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রশিদ, জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সুকোমল বড়ুয়া, এসএএস সুপার সুরঞ্জিত রায় দাস, জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের পংকজ কুমার বৈদ্য, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের হিসাবরক্ষক হুররমা আকতার খুকী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক উচ্চমান সহকারী খায়রুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads